Logo
Logo
×

সারাদেশ

মানবিক ডিসি জাহিদের উদ্যোগে গণশুনানিতে মিলল আশার আলো

Icon

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯ এএম

মানবিক ডিসি জাহিদের উদ্যোগে গণশুনানিতে মিলল আশার আলো

চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের সাপ্তাহিক গণশুনানি কক্ষটি বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) যেন পরিণত হয়েছিল অসহায় মানুষের শেষ ভরসার জায়গায়। জীবনের নানা সংকট, অভাব আর অনিশ্চয়তার গল্প নিয়ে একে একে হাজির হন কয়েকজন ভুক্তভোগী। তাদের কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। অনেকের চোখে ছিল দুশ্চিন্তা, কারও কণ্ঠে ছিল দীর্ঘদিনের চেপে রাখা কষ্ট। সবারই একটাই প্রত্যাশা- কেউ যেন পাশে দাঁড়ান।

নগরের হালিশহর থানার বড়পোল এলাকার হাফেজ মোহাম্মদ আবুল হোসাইন দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন মসজিদে ইমামতি ও রমজানে খতম তারাবির নামাজ পড়িয়ে সংসার চালিয়ে আসছেন। পাশাপাশি একটি হাফেজিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করে দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত করার স্বপ্ন লালন করছিলেন।

কিন্তু হঠাৎ মাদ্রাসার চাকরি চলে গেলে ভেঙে পড়ে সেই স্বপ্নের ভিত। সংসারে নেমে আসে চরম আর্থিক সংকট। একমাত্র ছেলের এসএসসি পরীক্ষার ফি ও টেস্ট পেপার কেনার সামর্থ্যও ছিল না তার।

অসহায় এই মানুষটি পরিচিতজনদের পরামর্শে গণশুনানিতে এসে নিজের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। বিষয়টি শুনে জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা দেন। কার্যালয় থেকে বেরিয়ে আবুল হোসাইনের কণ্ঠে ছিল স্বস্তি, চোখে কৃতজ্ঞতার ছাপ। তিনি বলেন, এত ব্যস্ততার মাঝেও স্যার আমার কথা শুনেছেন। সঙ্গে সঙ্গে সাহায্য করেছেন। মনে হয়েছে, আমরা একা নই।

লোহাগাড়া থানার উত্তর কলাউজান গ্রামের মো. ইছহাক দুর্ঘটনায় বাম হাত সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে ফেলেন। কর্মক্ষমতা হারিয়ে তার আয়-রোজগারের পথ বন্ধ হয়ে যায়। এর মধ্যে বৃদ্ধা মা জটিল রোগে ভুগছেন। অর্থের অভাবে মায়ের চিকিৎসা শুরু করাও সম্ভব হচ্ছিল না।

শেষ ভরসা হিসেবে তিনি গণশুনানিতে আসেন। জেলা প্রশাসক তার কথা মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করেন। ইছহাক বলেন, ডিসি স্যার আমার কষ্টের কথা বুঝেছেন। এখন অন্তত মায়ের চিকিৎসা করাতে পারব।

নগরের কোতোয়ালি থানার আশকারদিঘীরপাড় এলাকার সীমা দে স্বামীহারা। তার ছেলে সিদ্ধার্থ দে বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী। ছেলের উন্নত চিকিৎসার প্রয়োজন হলেও অর্থাভাবে তা সম্ভব হচ্ছিল না। দুই মেয়ে স্কুলে পড়াশোনা করছে। আর প্রতিবন্ধী সন্তানের সার্বক্ষণিক দেখাশোনার কারণে নিয়মিত কাজও করতে পারছেন না তিনি।

জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আর্থিক সহায়তা পান সীমা দে। তার কথায়, এই সাহায্য আমার সন্তানের চিকিৎসায় নতুন আশা জাগিয়েছে।

রাউজান উপজেলার পবন বড়ুয়া জটিল লিভার সমস্যায় আক্রান্ত। চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে প্রায় দিশেহারা হয়ে পড়েছিলেন তিনি ও তার পরিবার। গণশুনানিতে এসে সহায়তা চাইলে জেলা প্রশাসক তার প্রতিও মানবিক সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন।

জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, সরকারি তহবিল সীমিত, কিন্তু মানুষের অসহায় গল্প শুনলে চুপ করে থাকা যায় না। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করেছি। চাহিদার তুলনায় সহায়তা কম হলেও সরকার যে তাদের পাশে আছে, সেই বার্তাটি পৌঁছে দিতে চাই।

গণশুনানির এই দিনটি তাই শুধু প্রশাসনিক কার্যক্রম ছিল না; ছিল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এক মানবিক প্রতিশ্রুতির দিন।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন