শেরপুর-ধুনট আসনে ফলাফলের অপেক্ষায় প্রার্থী-ভোটাররা
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪০ পিএম
বগুড়ার শেরপুর-ধুনট (বগুড়া-৫) আসনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। দিনব্যাপী ভোটগ্রহণে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রার্থী, দলীয় নেতাকর্মী, সমর্থক ও সাধারণ ভোটাররা এখন ফলাফলের অপেক্ষায় রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে নারী-পুরুষসহ নানা বয়সী ভোটারদের দীর্ঘ সারি দেখা যায়। সকাল সাড়ে ৭টায় ভোটগ্রহণ শুরু হওয়ার পরপরই ভোটারদের কেন্দ্রমুখী হতে দেখা যায়, এবং সময় বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে কেন্দ্রগুলো প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পেয়ে অনেক ভোটারের মাঝে ছিল উচ্ছ্বাস। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরে আনন্দ প্রকাশ করেন প্রবীণ ভোটাররা। নতুন ভোটারদের মধ্যেও ছিল ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা।
সকাল ৯টায় উপজেলার সিমাবাড়ী ইউনিয়নের ধনকুন্ডি শাহনাজ সিরাজ স্কুল অ্যান্ড কলেজ ভোটকেন্দ্রে ভোট প্রদান করেন বগুড়া-৫ আসনের বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ। এ সময় তার পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। ভোট প্রদান শেষে তিনি বলেন, দীর্ঘদিন পর মানুষ নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারছে। ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতি প্রমাণ করে মানুষ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগে কতটা আগ্রহী। আশা করি জনগণ তাদের রায় সুষ্ঠুভাবে প্রকাশ করবে।
অপরদিকে, সকাল ৮টায় উপজেলার খামারকান্দি ইউনিয়নের শুভগাছা দাখিল মাদ্রাসা ভোটকেন্দ্রে ভোট দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মাওলানা মো. দবিবুর রহমান। দলীয় নির্দেশনার কারণে তিনি তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। পরে বেলা সাড়ে ১০টার দিকে মহিপুরের সামিট স্কুল কেন্দ্রে তিনি ব্যাপক ভোটে বিজয়ের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
নির্বাচনের সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা এম আব্দুল্লাহ ইবনে মাসুদ জানান, ভোটগ্রহণ শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
ভোটকেন্দ্রগুলোতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকায় ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। দীর্ঘ সময় পর এমন শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোট দিতে পেরে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন অনেক ভোটার।
ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ায় এখন প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ ভোটারদের মধ্যেও ফলাফল নিয়ে বাড়ছে আগ্রহ ও উৎকণ্ঠা। সংশ্লিষ্টদের মতে, শান্তিপূর্ণভাবে ভোট আয়োজন গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে আরও শক্তিশালী করতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।



