একাধিক মামলার আসামি ‘আরসা’ কমান্ডার গ্রেপ্তার
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৮ পিএম
কক্সবাজারের উখিয়া থেকে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠী আরসার কামান্ডার জাহিদ হোসেন লালুকে একটি বিদেশি পিস্তল ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে সেনাবাহিনীর নেতৃত্ব যৌথ অভিযানিক দল।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে উখিয়া ডিগ্রি কলেজ সংলগ্ন সেনাবাহিনীর ক্যাম্পে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান ক্যাম্পটির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়মন সিকদার।
গ্রেপ্তার জাহিদ হোসেন লালু (৪০) উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বাসিন্দা। তিনি আলোচিত রোহিঙ্গা নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ এবং সীমান্তে সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার রেজোয়ানুল হকসহ একাধিক হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি।
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়মন সিকদার বলেন, বুধবার সকাল ৭টায় উখিয়ার কুতুপালং ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি বসত ঘরে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গোষ্ঠী আরসার কমান্ডার জাহিদ হোসেন লালু অবস্থানের খবরে সেনাবাহিনীর নেতৃত্বে একটি যৌথ দল অভিযান চালায়। এতে সন্দেহজনক বসত ঘরটি ঘিরে ফেললে একজন ব্যক্তি কৌশলে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা চালায়। এসময় যৌথ বাহিনীর সদস্যরা তাকে ধাওয়া দিয়ে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। পরে গ্রেপ্তার ব্যক্তির দেহ তল্লাশি করে পাওয়া যায় বিদেশি একটি পিস্তল ও ২টি গুলি।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, লালু দীর্ঘদিন ধরে আরসার প্রধান হাফেজ আতাউল্লাহ আবু আম্মার জুনুনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও দেহরক্ষী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিল। সে মিয়ানমার ও বাংলাদেশে আরসার বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে সরাসরি জড়িত ছিল। ইতোপূর্বে লালুর নেতৃত্বে রোহিঙ্গা ক্যাম্প সমূহে হত্যা, অপহরণ, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অগ্নিসংযোগসহ নানাবিধ সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
তার বিরুদ্ধে গত ২০২১ সালে ১৮ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের একটি মাদ্রাসায় হামলা চালিয়ে ৬ জন ছাত্র-শিক্ষককে হত্যা, একই বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনপন্থী নেতা মাস্টার মুহিবুল্লাহ হত্যাকাণ্ড এবং ডিজিএফআই কর্মকর্তা স্কোয়াড্রন লিডার রেজোয়ান হত্যার ঘটনাসহ বিভিন্ন চাঞ্চল্যকর নাশকতা মূলক ঘটনার সাথে তার সরাসরি সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
উখিয়া সেনা ক্যাম্পের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সায়মন সিকদার জানান, গ্রেপ্তার সন্ত্রাসীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।



