কিশোরগঞ্জে একরাতে তিন কৃষকের খড়ের গাদায় দুর্বৃত্তদের আগুন
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৫ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জে একরাতে তিন কৃষকের খড়ের গাদায় আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। গরুর খাদ্য হিসেবে সংরক্ষিত খড়ের গাদায় রাতের আঁধারে আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) রাতে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভূবিরচর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। রাতের আঁধারে খড়ের গাদায় আগুনের ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে। একই রাতে তিনটি খড়ের গাদায় আগুনের ঘটনায় রহস্যেরও সৃষ্টি হয়েছে। এই আগুন লাগানোর ঘটনার পর থেকে এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূবিরচর গ্রামের কৃষক মো. নজরুল ইসলাম, তার ছোট ভাই মোঃ শফিকুল ইসলাম ও একেই এলাকার হারুন মিয়া ধান মাড়াইয়ের পর গবাদি পশুর খাদ্য হিসেবে জমিয়ে বাড়ির পাশে খড়ের গাদা তৈরি করে রাখে। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে নজরুল ইসলাম ও তার ছোট ভাই মো. শফিকুল ইসলামের বাড়িতে দুটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। সঙ্গে সঙ্গে আগুনের লেলিহান ছড়িয়ে পড়ে গাদাজুড়ে। এ সময় আগুন দেখে লোকজন ঘর থেকে বেরিয়ে এসে নেভানোর চেষ্টা করেন। তার আগেই বেশিরভাগ খড়ের গাদা পুড়ে যায়। এদিকে লোকজনের ছোটাছুটি দেখে দুর্বৃত্তরা সটকে পড়ে। তার এক ঘন্টা পরে একেই এলাকার কৃষক হারুনের খড়ের গাদাতেও আগুনের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে খড়ের গাদা আগুন ছড়িয়ে যায়। পরে স্থানীয় এলাকাবাসীর সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। ঘটনাটি আতঙ্ক বা নাশকতা সৃষ্টির জন্য এই আগুন লাগানো হয়েছে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। কেননা, খড়ের গাদার পাশেই সবার বাড়ি রয়েছে। বাড়ি-ঘরে আগুন ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা ছিল। কেউ কেউ মনে করছেন, গ্রামের বখাটেরা তামাশা করার জন্য এই আগুন লাগিয়ে থাকতে পারে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আমার বাড়ির আঙিনায় রাখা খড়ের পালায় রাতের অন্ধকারে দুর্বৃত্তরা আগুন দেয়, যা মুহূর্তে খড়ের পালায় ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়দের সহযোগিতায় আগুন নিয়ন্ত্রণ আনে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, রাত সাড়ে ১০ টার দিকে হঠাৎ লোকজনের চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখি আমার খড়ের গাদায় আগুন। লোকজন এগিয়ে এসে দ্রুত আগুন নিভাতে সক্ষম হয়। আমার এখানে আগুন লাগার ঘটনা এক ঘন্টা পরেই খবর আসে আরও একটি স্থানে আগুন লাগার।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক হারুন মিয়া জানান, আমরা সবাই ঘুমিয়েছিলাম, হঠাৎ চারদিক চিৎকার শুরু হয়। ঘুম থেকে উঠেই দেখি আমার খড়ের গাদায়ও দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এমন হলে জানমালের নিরাপত্তা থাকল কই?
স্থানীয় এলাকার বাসিন্দা রাবুল হোসেন বলেন, আগুন লাগার ঘটনার মুহূর্তের মধ্যে এলাকা জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। মোঃ নজরুল ইসলাম ও তার ছোট ভাইয়ের খড়ের গাদায় আগুন নিভাতে প্রায় ৫০০ মানুষ এসেছিলেন। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই একেই এলাকার হারুন মিয়ার বাড়ি থেকে খবর আসে, সেই জায়গায় আগুন লাগার।
পুলিশ সতর্ক হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন নয় বলে রাবুল আরও বলেন, সুপরিকল্পিতভাবে খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে এতগুলো বাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনা নিয়ে আমরা সবাই চিন্তিত। এলাকায় পুলিশের টহল ব্যবস্থা জোরালো করতে হবে। বিশেষ করে রাতের বেলায় পুলিশ এলাকা প্রদক্ষিণ করলে অপরাধীরা অপরাধের সাহস করবে না।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম বলেন, এটি দুঃখজনক ঘটনা। এভাবে গো-খাদ্য পুড়িয়ে ফেলা কোন মানুষের কাজ নয়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঞার সঙ্গে ফোনে কথা হলে তিনি বলেন, এখনও কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।



