কিশোরগঞ্জে একরাতে তিন কৃষকের খড়ের গাদায় আগুন, আতঙ্কে গ্রামবাসী
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:১১ এএম
কিশোরগঞ্জে এক রাতেই তিন কৃষকের গরুর খাদ্য হিসেবে সংরক্ষিত খড়ের গাদায় আগুন দেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। দুর্বৃত্তদের দেওয়া এই আগুনে কোনো হতাহতের ঘটনা না ঘটলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
সোমবার (২ জানুয়ারি) রাতের আঁধারে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার যশোদল ইউনিয়নের ভূবিরচর গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। একই রাতে পরপর তিনটি খড়ের গাদায় আগুন লাগার ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে রহস্য ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভূবিরচর গ্রামের কৃষক মো. নজরুল ইসলাম, তার ছোট ভাই মো. শফিকুল ইসলাম এবং একই গ্রামের কৃষক হারুন মিয়া ধান মাড়াইয়ের পর গবাদিপশুর খাদ্য হিসেবে বাড়ির পাশে খড়ের গাদা করে রাখেন। সোমবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে প্রথমে নজরুল ইসলাম ও শফিকুল ইসলামের বাড়ির পাশে রাখা দুটি খড়ের গাদায় আগুন ধরিয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো গাদাজুড়ে। স্থানীয়রা ছুটে এসে আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও এর আগেই বেশিরভাগ খড় পুড়ে যায়। লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে দুর্বৃত্তরা পালিয়ে যায়।
এর প্রায় এক ঘণ্টা পর একই গ্রামের কৃষক হারুন মিয়ার খড়ের গাদাতেও আগুন দেওয়া হয়। দ্রুত আগুন ছড়িয়ে পড়লেও এলাকাবাসীর সহযোগিতায় তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, রাতের অন্ধকারে আমার বাড়ির আঙিনায় রাখা খড়ের গাদায় আগুন দেওয়া হয়। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বড় ধরনের ক্ষতি থেকে রক্ষা পাই।
তার ছোট ভাই মো. শফিকুল ইসলাম জানান, হঠাৎ চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে দেখি খড়ের গাদায় আগুন। এক ঘণ্টা পরই আরেক কৃষকের বাড়িতেও একই ঘটনা ঘটায় আমরা সবাই আতঙ্কিত।
অন্যদিকে কৃষক হারুন মিয়া বলেন, আমরা ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ চিৎকারে উঠে দেখি খড়ের গাদায় দাউ দাউ করে আগুন জ্বলছে। এতে জানমালের নিরাপত্তা নিয়েই শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা রাবুল হোসেন বলেন, একই রাতে একাধিক বাড়িতে খড়ের গাদায় আগুন দেওয়াটা সুপরিকল্পিত বলেই মনে হচ্ছে। পুলিশ টহল জোরদার হলে এ ধরনের অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
স্থানীয় ইউপি সদস্য শফিকুল ইসলাম ঘটনাটিকে দুঃখজনক উল্লেখ করে বলেন, এভাবে কৃষকের গো-খাদ্য পুড়িয়ে দেওয়া কোনো মানবিক কাজ নয়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবুল কামাল ভূঞা বলেন, এখনো কেউ লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



