এনসিটি ইজারার প্রতিবাদে টানা কর্মবিরতিতে অচল চট্টগ্রাম বন্দর
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:০৭ এএম
নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানিকে ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে শ্রমিক-কর্মচারীদের কর্মবিরতিতে শনিবার টানা আট ঘণ্টা অচল ছিল চট্টগ্রাম বন্দর। সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত বন্দরের জেটিতে আমদানি ও রপ্তানির পণ্যবাহী কনটেইনার ওঠানামা বন্ধ থাকায় কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এরই মধ্যে লাইটার জাহাজ সংকটে বহির্নোঙরে তৈরি হওয়া জাহাজজট পরিস্থিতি কর্মবিরতির কারণে আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। শ্রমিক-কর্মচারীরা আজ রোববারও একই সময় আট ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ গত বৃহস্পতিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে অফিস চলাকালে মিছিল, মহড়া ও আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেয়। এর মধ্যেই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া চার শ্রমিকনেতাকে জরুরি ভিত্তিতে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকার কেরানীগঞ্জের পানগাঁও নৌ টার্মিনালে বদলি করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তাঁরা বিএনপিপন্থী জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের নেতা। দলটির ব্যানারেই দুই দিন ধরে প্রতিদিন আট ঘণ্টা করে কর্মবিরতির কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়।
সরকার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডকে এনসিটি ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর থেকেই চট্টগ্রাম বন্দরে অস্থিরতা চলছে। গত বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি-সংক্রান্ত প্রক্রিয়ার বৈধতা ঘোষণা করে করা রিট খারিজ করে দেন। এ আদেশের খবর বন্দরে ছড়িয়ে পড়ার পরই শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে এবং আন্দোলন জোরালো হয়।
শনিবার কর্মবিরতির কারণে জিসিবি টার্মিনাল, সিসিটি ও এনসিটিতে জাহাজ থেকে কনটেইনার ওঠানো-নামানোর কাজ বন্ধ থাকে। এতে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কনটেইনার জেটিতে আটকে পড়ে। তবে এনসিটির বেসরকারি ডিপো থেকে আনা রপ্তানি পণ্যবাহী কনটেইনার জাহাজে তোলার কার্যক্রম সীমিত পরিসরে চালু ছিল।
বাংলাদেশ ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো অ্যাসোসিয়েশনের (বিকডা) মহাসচিব মো. রুহুল আমিন সিকদার জানান, কর্মবিরতির ফলে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। রোববারও কর্মবিরতি হলে অনেক রপ্তানি পণ্য ফেলে জাহাজ বন্দর ছাড়তে পারে, এতে ব্যবসায়ীরা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বেন বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
অন্যদিকে, দুই সপ্তাহ ধরে লাইটার জাহাজ সংকটের কারণে বন্দরের বহির্নোঙরে তীব্র জাহাজজট তৈরি হয়েছে। শনিবার পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দরে ১০৮টি জাহাজ পণ্য খালাসের অপেক্ষায় ছিল, যার মধ্যে ১০৩টি বহির্নোঙরে অবস্থান করছিল। সাধারণ সময়ে এ সংখ্যা ৩০ থেকে ৩৫টির মধ্যে থাকে বলে জানান বন্দর কর্মকর্তারা।
বাংলাদেশ শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদের (স্কপ) যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ নুরুল্লাহ বাহার বলেন, এনসিটি বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার প্রতিবাদে বন্দরের সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছে এবং রোববারও কর্মবিরতি অব্যাহত থাকবে।
এদিকে বদলি হওয়া চার কর্মচারীর একজন ও সিবিএর সাবেক প্রচার সম্পাদক মো. হুমায়ুন কবির বলেন, বদলির আদেশ প্রত্যাহার না হলে আন্দোলন আরও কঠোর করা হবে। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) মোহাম্মদ ওমর ফারুক দাবি করেছেন, এটি নিয়মিত বদলি প্রক্রিয়ার অংশ এবং আন্দোলনের সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক নেই।



