৯ মাসের জন্য বন্ধ হচ্ছে সেন্টমার্টিনে পর্যটক ভ্রমণ
কক্সবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৯ পিএম
দেশের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য সেন্টমার্টিন। পর্যটকে মুখোর থাকা এ সেন্টমার্টিনে আবারও নেমে আসছে দীর্ঘ নীরবতা। পরিবেশ সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার প্রবাল দ্বীপটিতে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে টানা ৯ মাস পর্যটক ভ্রমণ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী শনিবার (৩১ জানুয়ারি) চলতি মৌসুমের পর্যটন কার্যক্রম শেষ হচ্ছে। ফলে আজই শেষবারের মতো পর্যটক নিয়ে সেন্টমার্টিনে যাচ্ছে জাহাজগুলো।
সাধারণত প্রতিবছর ১ অক্টোবর থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেন্টমার্টিনে পর্যটক যাতায়াতের অনুমতি থাকে। তবে এ বছর পরিবেশগত ঝুঁকি বিবেচনায় সময়সীমা কমিয়ে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত নির্ধারণ করা হয়।
কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হোসাইন জানান, রোববার থেকে পর্যটকবাহী কোনো জাহাজ চলাচলের অনুমতি থাকবে না। সরকার পরবর্তী সময়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সেন্টমার্টিন রুটের পর্যটকবাহী জাহাজ মালিকদের সংগঠন ‘সি ক্রুজ অপারেটর ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ’ এর সাধারণ সম্পাদক হোসাইন ইসলাম বাহাদুর বলেন, গত ১ ডিসেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই যাত্রায় ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত দুই মাসে ১ লাখ ১০ হাজার পর্যটক সেন্টমার্টি ভ্রমণ করেছেন।
সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী দ্বীপে রাতের বেলায় সৈকতে আলো জ্বালানো, উচ্চ শব্দ, বারবিকিউ পার্টি, কেয়াবনে প্রবেশ, কেয়া ফল সংগ্রহ ও বিক্রি নিষিদ্ধ থাকবে। পাশাপাশি সামুদ্রিক কাছিম, পাখি, প্রবাল, রাজকাঁকড়া, শামুক ঝিনুকসহ কোনো জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি করা যাবে না।
সৈকতে মোটরসাইকেল ও অন্যান্য মোটরচালিত যান চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে। পলিথিনসহ একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন করা যাবে না। পর্যটকদের নিজস্ব পানির ফ্লাস্ক সঙ্গে রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সেন্টমার্টিনের পরিবেশ-প্রতিবেশ ও জীব বৈচিত্র সুরক্ষায় দেশের সর্বদক্ষিণের এই দ্বীপটিতে ২০২৩ সাল থেকে পর্যটক ভ্রমণে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার।



