চাঁদাবাজদের হাতেও সম্মানের কাজ তুলে দেব : জামায়াত আমির
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২২ পিএম
চাঁদাবাজদের হাতে ‘সম্মানের কাজ’ তুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। চাঁদাবাজদের উদ্দেশে তিনি বলেন, চাঁদাবাজ, তুমি ভয় পেয়ো না। তোমার হাতেও আমরা সম্মানের কাজ তুলে দেব। সমাজে তোমাকে আর মুখ ঢেকে চলতে হবে না। কেউ তোমার মা–বাবাকে চাঁদাবাজের মা–বাবা বলবে না, স্ত্রীকে চাঁদাবাজের স্ত্রী বলবে না। সম্মানের সঙ্গে সমাজে বসবাস করতে পারবে।
আজ শনিবার গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার এস এম উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী সমাবেশে এসব কথা বলেন তিনি।
সমাবেশে জামায়াত আমির বলেন, কৃষকেরা ন্যায্য মূল্য না পাওয়ার পেছনে দুটি প্রধান কারণ রয়েছে—মধ্যস্বত্বভোগী ও ঘাটে ঘাটে চাঁদাবাজি। আমরা সব চাঁদাবাজদের নির্মূল করব, বলেন তিনি।
উত্তরবঙ্গের নদীগুলোর করুণ চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নদীগুলো আজ মরুভূমি ও কঙ্কালে পরিণত হয়েছে। নদীর জীবন ফিরে আসলে নর্থ বেঙ্গলের জীবন ফিরে আসবে। আমরা গোটা উত্তরবঙ্গকে একটি কৃষিভিত্তিক রাজধানীতে পরিণত করতে চাই। সরকার গঠন করতে পারলে তিস্তা মহাপরিকল্পনার পাশাপাশি সব নদী পুনরুজ্জীবনে একটি সমন্বিত মহাপরিকল্পনা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
পররাষ্ট্রনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে আধিপত্যবাদের ছায়া দেখতে চাই না। বিশ্বের সব সভ্য দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব চাই, প্রতিবেশীদের প্রতিবেশী হিসেবেই দেখতে চাই। আমরা কারও ওপর খবরদারি করব না, আবার কেউ এসে বাংলাদেশের ওপর খবরদারি করুক, সেটাও মেনে নেব না।
তিনি বলেন, গত ৫৪ বছরের রাজনৈতিক শাসনব্যবস্থা দেশকে ফ্যাসিবাদের দিকে ঠেলে দিয়েছে, যা এখন আমূল পরিবর্তনের সময় এসেছে।
গণভোট প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, আগামী ১২ তারিখ একসঙ্গে গণভোট ও সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। গণভোট সফল হলে নির্বাচনও সফল হবে। জুলাই শহীদদের প্রতি সম্মান দেখাতে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বলতে হবে,—এ আহ্বান জানান তিনি।
উত্তরবঙ্গকে দেশের কৃষির উর্বর ক্ষেত্র উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখানে একাধিক কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজন, যার জন্য গাইবান্ধা অগ্রাধিকার পাবে। পাশাপাশি কৃষিভিত্তিক ইপিজেড প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি বলেন, কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাত ও রপ্তানিযোগ্য করতে উত্তরবঙ্গে ইপিজেড স্থাপন করা হবে।
সমাবেশ শেষে গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দেন জামায়াত আমির।



