নরসিংদীতে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের ম্যুরাল পুনর্নির্মাণের কাজ উদ্বোধন
নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৪০ এএম
ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পের অংশ হিসেবে সাময়িকভাবে অপসারণ করা বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরাল পুনর্নির্মাণের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে নরসিংদীতে।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) দুপুরে রায়পুরা উপজেলার মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা। এ সময় স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে গত ২০ জানুয়ারি ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় রায়পুরা উপজেলায় মহাসড়কের পাশে নির্মিত বীরশ্রেষ্ঠ ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমানের ম্যুরালটি অপসারণ করা হয়। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বীরশ্রেষ্ঠের পরিবারের অনুমতিক্রমেই ম্যুরালটি সাময়িকভাবে সরানো হয়।
রায়পুরা উপজেলা প্রশাসন জানায়, মহাসড়ক প্রশস্তকরণের কাজ নির্বিঘ্নে বাস্তবায়নের স্বার্থেই সড়ক ও জনপদ অধিদপ্তর ম্যুরালটি অপসারণ করে। এতে বীরশ্রেষ্ঠের প্রতি কোনো ধরনের অবমাননা বা অবহেলার বিষয় নেই। আগের নকশা ও কাঠামো অনুসরণ করেই ম্যুরালটি পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে, তবে আগের তুলনায় আরও বড় পরিসরে।
নতুন করে নির্মিত ম্যুরালটির আয়তন হবে ৩০ ফুট বাই ৩০ ফুট, যেখানে আগে এটি ছিল ১৬ ফুট বাই ১৬ ফুট। ফলে দূর থেকে ম্যুরালটি আরও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
রায়পুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, ঢাকা–সিলেট মহাসড়ক প্রশস্তকরণ কাজ চলমান থাকায় প্রথমে আমরা ম্যুরালটি অক্ষুণ্ন রেখেই উন্নয়নকাজ করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু এটি সড়কের মাঝখানে পড়ে যাওয়ায় সড়ক ও জনপদ বিভাগ এবং স্থানীয় প্রশাসনের উপস্থিতিতে সাময়িকভাবে অপসারণ করা হয়। উন্নয়নের জন্য নির্ধারিত জায়গার পর মহাসড়কের পাশেই আগের নকশা অনুযায়ী বড় আকারে ম্যুরালটি পুনর্নির্মাণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পুনর্নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে এবং আগামী ২৬ মার্চের আগেই নির্মাণকাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান বাংলাদেশের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের একজন। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের উদ্দেশ্যে পাকিস্তানের একটি বিমানঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান নিয়ে দেশে ফেরার পথে বিমান বিধ্বস্ত হয়ে তিনি শহীদ হন। দেশের প্রতি তার অসামান্য ত্যাগ ও সাহসিকতার স্বীকৃতিস্বরূপ তাকে সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ খেতাবে ভূষিত করা হয়।
বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার রামনগর গ্রামে। তার স্মৃতি সংরক্ষণ ও নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে ২০০৮ সালে সেখানে একটি জাদুঘর নির্মাণ করা হয়। পাশাপাশি ঢাকা–সিলেট মহাসড়কের পাশে মাহমুদাবাদ নামাপাড়া এলাকায় নির্মিত হয় তার স্মৃতিফলক ‘বাংলার ঈগল’।
ত্রিমুখী কালো পাথরের এই স্মৃতিফলকের একটি স্তম্ভে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমানের প্রতিকৃতি, আরেকটিতে তার জীবনবৃত্তান্ত এবং অন্যটি খোলা আকাশের প্রতীক হিসেবে ফাঁকা রাখা হয়েছে। মাঝখানের ত্রিভুজ আকৃতির স্তম্ভে টেরাকোটায় মুক্তিযুদ্ধের বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এর শীর্ষে রয়েছে বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর নগর গ্রামের প্রবেশ নির্দেশক।



