বাবার কবর জিয়ারতের মধ্য দিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনে সাকির নির্বাচনি প্রচার শুরু
বাঞ্ছারামপুর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছেন গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের প্রধান সমন্বয়কারী বিএনপির সমর্থিত ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী জননেতা জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
বৃহস্পতিবার ২২ জানুয়ারি সকালে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার চরলহনিয়া গ্রামের কবরস্থানে তাঁর পিতা মো. ফজলুর রহমানের কবর জিয়ারতের মাধ্যমে তিনি তার দলীয় প্রতীক মাথাল মার্কার নির্বাচনী প্রচারণার সূচনা করেন।
কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে জোনায়েদ সাকি বলেন, সারাদেশের মতো বাঞ্ছারামপুরেও যারা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ ও পরবর্তী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পরও পরিকল্পিতভাবে বিভিন্ন রাজনৈতিক সংগঠনের নেতাকর্মীদের হত্যা করা হয়েছে। শহীদ হাদী তাঁদের মধ্যে অন্যতম। শহীদদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়েই নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার আমাদের।
তিনি বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের স্পষ্ট ফয়সালা হলো—এটি জনগণের রায়। কোনোভাবেই ফ্যাসিবাদের পুনর্জন্ম হতে দেওয়া যাবে না। যে নামেই হোক, যে শক্তির হাতেই হোক—ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে তার বিরুদ্ধে জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। অতীতে জাতিবাদী ফ্যাসিবাদের ভয়াবহ রূপ দেখেছে দেশ, এখন ধর্মীয় উসকানির মাধ্যমে নতুন করে জবরদস্তিমূলক শাসন কায়েমের অপচেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জোনায়েদ সাকি বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের বেঁচে থাকার অধিকার ও মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। সেই কারণেই রাষ্ট্রকে অবশ্যই গণতান্ত্রিক হতে হবে। গণঅভ্যুত্থান আমাদের সামনে তিনটি বিষয় স্পষ্ট করেছে—ন্যায়বিচার, সংস্কার ও নির্বাচন।
তিনি বলেন, যারা গুম-খুন ও দমন-পীড়নের সঙ্গে জড়িত ছিল, তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে। ন্যায়বিচারের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা সম্ভব। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা দীর্ঘদিন এককেন্দ্রিক থাকায় ফ্যাসিবাদের জন্ম হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, রাষ্ট্র সংস্কার এখন সময়ের দাবি। এক বছরব্যাপী আলোচনার মাধ্যমে প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদে ভবিষ্যতের শাসনতন্ত্র ও সংবিধান সংস্কারের রূপরেখা তুলে ধরা হয়েছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচন একদিকে গণভোট, অন্যদিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে জনগণ জুলাই জাতীয় সনদের প্রতি সম্মতি জানাবে এবং একই সঙ্গে একটি বৈধ সংসদ গঠনের পথ খুলে যাবে। এই দিনটি হবে জনগণের ভোটাধিকার ও মর্যাদা পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন।
তিনি আরও বলেন, দেশে ক্রমবর্ধমান আয়-বৈষম্য ও সম্পদের অসম বণ্টন সমাজে অস্থিরতা তৈরি করছে। ধর্ম, জাতিগত পরিচয় কিংবা লিঙ্গভিত্তিক কোনো বিভাজন নয়—সব নাগরিকের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতেই হবে।
বাঞ্ছারামপুরের উন্নয়ন প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, মানসম্মত শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা জরুরি। শিশু ও তরুণদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড বাড়াতে হবে, যাতে তারা মাদকের ভয়াবহতা থেকে দূরে থাকে। শিক্ষাজীবন শেষে তাদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব।
যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বাঞ্ছারামপুরবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ঢাকা-সংযোগকারী মেঘনা সেতু নির্মাণ। এই সেতু বাস্তবায়িত হলে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়বে এবং বেকারত্ব কমবে। কবর জিয়ারত শেষে সেখানে দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনার পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং একটি সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য দোয়া করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী ও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী শামীম শিবলীসহ গণসংহতি আন্দোলন বাংলাদেশের স্থানীয় নেতাকর্মীরা।



