গফরগাঁওয়ে বিএনপি ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের সংঘর্ষ, গুলিবর্ষণ
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৪ পিএম
ময়মনসিংহ-১০ (গফরগাঁও) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনাও ঘটে। এতে আহত হয়েছেন কমপক্ষে ১০ জন। বুধবার (২১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় গফরগাঁও পৌর শহরের ইসলামিয়া স্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
আহতরা হলেন- সাবেক ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং সোহাগসহ অজ্ঞতরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে প্রতীক পাওয়ার পর শোভাযাত্রা করার জন্য বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চুর অপেক্ষায় ঘটনাস্থল এলাকায় অবস্থান করছিলেন তার সমর্থকরা। এ সময় বিএনপির বিদ্রোহী এবি সিদ্দিকুর রহমানের সমর্থকরা হাঁস প্রতীক বরাদ্দ পেয়ে মিছিল নিয়ে ঘটনাস্থল এলাকায় যান। এতে দুই পক্ষ মুখোমুখি হয়ে পড়লে উত্তেজনার একপর্যায়ে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এ সময় প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটে। এতে দুই পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হন। এ ঘটনায় বেশ কয়েকটি স্থানে আগুন দেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও সেনাবাহিনী লাঠিচার্জ করলে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এ ঘটনায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বন্ধ রয়েছে স্থানীয়দের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান।
বিএনপির প্রার্থী আখতারুজ্জামান বাচ্চু বলেন, আমার দলের নেতাকর্মীদের ওপর প্রকাশ্যে গুলি করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে হামলা করা হয়েছে। এতে নেতৃত্ব দিয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী এবি সিদ্দিকুর রহমান। এ ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার করা হোক।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, প্রতীক পাওয়ায় আমার ১০ হাজার সমর্থক মিছিল করেছে। আমি গাড়িতে ছিলাম। আমরা কারও ওপর হামলা করিনি।
বিএনপির নেতাকর্মীদের অভিযোগ, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক এবি সিদ্দিকুর রহমান পলাতক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা এবং বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমানের ব্যবসায়িক পার্টনার। ঋণের নামে জনতা ব্যাংক থেকে ১৩৬ কোটি ৬৭ লাখ ৫৮ হাজার ৯৩১ টাকা আত্মসাৎ ও পাচারের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করার মামলার আসামি তিনি। এসব কারণে দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে তিনি এখন বিএনপির ক্ষতি করতে ষড়যন্ত্র করছেন।
দুদকের মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে এবি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, মামলা হতেই পারে। এটা কোনো বিষয় না।
খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল আল মামুন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তদন্ত করে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



