রূপগঞ্জে জিয়াউলের রাজকীয় ভবন সিলগালা, স্ত্রীর নামে মিলল সম্পদের পাহাড়!
রুপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০০ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টারের (এনটিএমসি) সাবেক মহাপরিচালক মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান ও তার স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামের থাকা নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার জলসিড়ি প্রজেক্ট এর ১২ নম্বর সেক্টরের ৫০৬ নম্বর রোডের ১৪ নম্বর প্লটের জয়িতা নামের ৮তলা বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট সিলগালা করেছে প্রশাসন।
বুধবার(২১ জানুয়ারী) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা এনডিসি ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শাহরিয়ার পারভেজ এ সিলগালা করেন। তবে, ৮তলার অন্যান্য ফ্ল্যাট ভাড়া দেওয়ায় এবং ভাড়াটিয়া থাকায় সিলগালা করেননি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে,আবাসন প্রকল্পের ভেতরে এই ৮ তলা ভবনটি অত্যন্ত সুরক্ষিত অবস্থায় ছিল। ভবনের ভেতরকার ফ্ল্যাটগুলো আধুনিক বিদেশি আসবাবপত্র এবং দামি ইন্টেরিয়র দিয়ে সাজানো। অভিযানের সময় দেখা যায়, ভবনটিতে উন্নত প্রযুক্তির সিসিটিভি এবং নিজস্ব নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা রয়েছে। প্রশাসনের নির্দেশে ভবনের প্রতিটি প্রবেশপথ এবং ফ্ল্যাট এখন আইনি হেফাজতে (সিলগালা) রয়েছে। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, জিয়াউল আহসান তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে নিজের এবং স্ত্রী নুসরাত জাহানের নামে বিপুল পরিমাণ স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি গড়ে তুলেছেন। নুসরাত জাহানের নামে প্রায় ১৬৪ শতাংশ জমি এবং ৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা থাকা ৩ কোটি ১৩ লাখ টাকা জব্দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রূপগঞ্জ, ঢাকা ও ঝালকাঠি মিলিয়ে তার নামে থাকা প্রায় ১০০ বিঘা জমি ও ৫টি বাড়ি চিহ্নিত করা হয়েছে। ঢাকা ও রূপগঞ্জের প্রাইম লোকেশনে ৩টি অভিজাত ফ্ল্যাট।
জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, এনটিএমসি প্রধান থাকাকালীন তিনি আধুনিক নজরদারি প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিভিন্ন শিল্পপতি ও ব্যবসায়ীদের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করতেন। পরবর্তীতে সেই তথ্য ব্যবহার করে ব্ল্যাকমেইল ও চাপের মুখে রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি ও অর্থ হাতিয়ে নিতেন। দুদকের মামলায় তার বিরুদ্ধে প্রায় ২২.২৭ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। জিয়াউল আহসান বর্তমানে জুলাই বিপ্লবের গণহত্যা মামলা এবং গুম (আয়নাঘর সংশ্লিষ্টতা) সংক্রান্ত একাধিক মামলায় কারাগারে রয়েছেন। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল এবং দুদক পৃথকভাবে তার আয়ের উৎস ও মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত করছে।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, উচ্চপদস্থ সেনা কর্মকর্তা হওয়া সত্ত্বেও ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে জিয়াউল আহসান দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, দণ্ডবিধি, মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনে অপরাধ করেছেন।
অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের করা মামলায় গত বছরের (বুধবার, ৭ জানুয়ারি) জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখানো হয়।



