Logo
Logo
×

সারাদেশ

বারবার ষড়যন্ত্রের শিকার চেয়ারম্যান সেন্টু

Icon

স্টাফ রিপোর্টার :

প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:০৯ পিএম

বারবার ষড়যন্ত্রের শিকার চেয়ারম্যান সেন্টু

ছবি : সংগৃহীত

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার আওতাধীন কুতুবপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল আলম সেন্টুর রাজনৈতিক জীবন যেন এক দীর্ঘ প্রতিহিংসার অধ্যায়। ক্ষমতার পালাবদল হয়েছে, শাসক বদলেছে, কিন্তু সেন্টুর চারপাশে ঘুরে বেড়ানো টার্গেটের বৃত্ত কখনো ছোট হয়নি। দুই ভিন্ন রাজনৈতিক আমলে, দুই ভিন্ন শক্তির কাছে তিনি থেকেছেন সন্দেহের মানুষ, অথচ সাধারণ মানুষের কাছে ছিলেন ভরসার নাম।

আওয়ামী লীগ আমলে কুতুবপুরে সেন্টুর জনপ্রিয়তা দ্রুতই শকুনের চোখে পড়ে। স্থানীয় রাজনীতিতে প্রভাবশালী বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচিত হওয়ায় শুরু থেকেই তিনি ছিলেন নজরদারিতে। সে সময়ের প্রভাবশালী সাংসদ শামীম ওসমানের সঙ্গে বিরোধের জেরে সেন্টুর ব্যবসা-বাণিজ্য ও সহায় সম্পত্তি পড়ে যায় চাপে। রাজনৈতিক বাস্তবতা তখন এমন এক জায়গায় নিয়ে দাঁড় করায়, যেখানে নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আপোষই হয়ে ওঠে একমাত্র পথ।

পরিস্থিতির চাপে বাধ্য হয়ে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে মাঠে নামতে হয় সেন্টুকে।

গুঞ্জন রয়েছে, কাজ না করলে গুম কিংবা ক্রসফায়ারের হুমকিও ছিল সামনে। শেষ পর্যন্ত নৌকা প্রতীকেই নির্বাচিত হন তিনি। কিন্তু ক্ষমতার প্রতীক বদলালেও ভেতরের বিশ্বাস বদলায়নি। বিএনপি মনোভাবাপন্ন সেন্টু নীরবে আগলে রেখেছেন দলটির নেতাকর্মীদের। মামলা-মোকাদ্দমা আর আইনি জটিলতায় পাশে দাঁড়িয়েছেন, যতটা সম্ভব সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন।

এই অবস্থানই তাকে আরও একা করে তোলে। কুতুবপুরের আওয়ামী লীগের একটি অংশ কখনোই তাকে আপন করে নিতে পারেনি। তৎকালীন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন একাধিক সভা-সমাবেশে প্রকাশ্যে সেন্টুর বিরুদ্ধে বক্তব্য দেন, হুমকিও আসে বারবার। জনপ্রিয়তার জোরে টিকে থাকলেও রাজনৈতিকভাবে ক্রমশ কোণঠাসা হতে থাকেন তিনি।

৫ আগস্টের পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন আসে। অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার বুঝি সেন্টুর দীর্ঘ লড়াইয়ের ইতি ঘটবে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। বিএনপির ভেতর থেকেই একটি অংশের চোখে কাঁটা হয়ে ওঠে তার জনপ্রিয়তা। সেই হিংসা আর সন্দেহ থেকেই নতুন করে শুরু হয় একঘরে করার চেষ্টা। বহিষ্কৃত নেতা হিসেবে তাকে চিহ্নিত করে রাজনীতির মূল স্রোত থেকে দূরে রাখার পায়তারা চলতে থাকে।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব এক সময় তার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করলেও, পর্দার আড়ালের নানা ষড়যন্ত্রে আবারও তা বহাল থাকে। তবে ষড়যন্ত্রকারীদের সেই ষড়যন্ত্র টিকতে পারেনি বেশী দিন। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব সেন্টুর প্রয়োজনীয়তা অনুধাবন করে তাকে আবার দলে ফিরিয়ে নিয়েছেন।

কুতুবপুরের রাজনীতিতে মনিরুল আলম সেন্টুর গল্প তাই শুধু একজন নেতা নয়। এটি জনপ্রিয়তা, ক্ষমতা আর প্রতিহিংসার সংঘর্ষে পড়ে যাওয়া এক মানুষের দীর্ঘ, ক্লান্তিকর পথচলার দলিল। এখন প্রশ্ন থেকেই যায় সেন্টুর এই লড়াইয়ের শেষ কোথায়?

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন