শেরপুরে ‘জনতার কণ্ঠে জনতার ইশতেহার
শেরপুর (বগুড়া) প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:০৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বগুড়ার শেরপুরে ব্যতিক্রমী এক আলোচনা সভা ‘জনতার কণ্ঠে জনতার ইশতেহার’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘একসাথে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে সামাজিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে আয়োজিত সভাটি অনুষ্ঠিত হয় মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১০টায় শেরপুর শহরের শহীদ গাজীউর রহমান কমিউনিটি সেন্টারে।
আসিফ সিরাজ রব্বানীর উদ্যোগে আয়োজিত এই সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য (বগুড়া-৫ ও ৬) গোলাম মো. সিরাজ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম মো. সিরাজ বলেন, “২০০৬ সাল পর্যন্ত এ দেশের শিক্ষার মান অত্যন্ত ভালো ছিল। কিন্তু গত ১৭ বছরে ফ্যাসিস্ট সরকার পরিকল্পিতভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। বিশেষ করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মান এখন তলানিতে নেমে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আমি শুধু ভোটের জন্য এখানে আসিনি। জুলাই বিপ্লবের যোদ্ধাদের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী দেশ পরিবর্তন এবং তারুণ্যের চাওয়া পূরণ করাই আমার মূল লক্ষ্য।”
স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও কৃষকের অধিকার নিশ্চিত করতে নৈতিক পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি একটি শক্তিশালী ইসলামী ফাউন্ডেশন গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন, যেখানে ইসলামের প্রকৃত নৈতিক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী বক্তা ছিলেন ‘একসাথে গড়ি সমৃদ্ধ শেরপুর-ধুনট’-এর আহ্বায়ক আসিফ সিরাজ রব্বানী। আমিনুল মজলিসের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন আরডিএ বগুড়ার পরিচালক ড. আব্দুল মজিদ, বিশিষ্ট করপোরেট ব্যক্তিত্ব মেহবুব চৌধুরী, ডা. আমিরুল ইসলাম, সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের প্রোগ্রাম ম্যানেজার ড. সৈয়দা জিনিয়া রশীদ এবং শেরউড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল এন্ড কলেজের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম (মিঠু)।
আলোচনা সভায় তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও সমস্যার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন।
নুসরাত জাহান রিতা বলেন, “শিক্ষার মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিকাশ জরুরি হলেও শেরপুর-ধুনট এলাকায় নারীদের জন্য কোনো সরকারি কলেজ নেই। নারী শিক্ষা প্রসারে অবকাঠামো ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।”
প্রবীণ নাগরিক নূর মোহাম্মদ ধুনট এলাকায় বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটের কথা তুলে ধরে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর প্রতিনিধি প্রাণ কুমার সিং বলেন, “আমাদের জন্য স্থায়ী বসতবাড়ি নির্মাণ করা হলে জীবনমানের উন্নয়ন সম্ভব হবে।”
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি শাহ আলম পান্না আক্ষেপ করে বলেন, “স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার কথা বলা হলেও বাস্তবে এটি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে।”
কৃষক শামিন হোসেন বলেন, “আমরা লস দিয়ে ফসল বিক্রি করছি। উৎপাদন খরচ আর বাজার মূল্যের আকাশ-পাতাল পার্থক্য আমাদের ধ্বংস করে দিচ্ছে।”
খেলোয়াড় রুমন আলী শেরপুরে একটি আধুনিক খেলার মাঠের দাবি জানিয়ে বলেন, মাঠের অভাবে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় অকালে ঝরে পড়ছে।
ডা. আসিফ ইকবাল সনি বলেন, “ডাক্তার ও রোগীর মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি দূর করে সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে।”
অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তব্যে বক্তারা একমত পোষণ করে বলেন, কোনো বিভেদ নয়—সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই শেরপুর-ধুনটকে একটি আধুনিক ও সমৃদ্ধ জনপদে রূপান্তর করা সম্ভব। তারা জনতার এই দাবি ও আকাঙ্ক্ষাগুলো নীতি-নির্ধারণী পর্যায়ে পৌঁছে দেওয়ার জোর দাবি জানান।



