রূপগঞ্জে দুর্ধর্ষ ডাকাতি, আহত ২
রুপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নে একই রাতে তিনটি বাড়িতে দুর্ধর্ষ ডাকাতি সংঘটিত হয়েছে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দিবাগত রাত দেড়টা থেকে ৩টার মধ্যে ইউনিয়নের ইছাখালী, কায়েতপাড়া ও বরুনা গ্রামে এই তণ্ডব চালায় সশস্ত্র ডাকাত দল। ডাকাতরা তিনটি বাড়ি থেকে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকারসহ প্রায় ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে গেছে। এসময় ডাকাতদের হামলায় গৃহকর্তাসহ অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে কায়েতপাড়া ইউনিয়নের ইছাখালী গ্রামের ব্যবসায়ী আব্দুল বাতেনের বাড়িতে ৭/৮ সদস্যের একটি সশস্ত্র ডাকাত দল হানা দেয়। ডাকাতরা বসতঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে পরিবারের সদস্যদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে ফেলে। ডাকাতরা আলমারি ভেঙে স্বর্ণালংকার ও ৫টি দামী মোবাইল ফোনসহ প্রায় ৭ লক্ষ টাকার মালামাল লুট করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় আব্দুল বাতেন বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। এর ঠিক এক ঘণ্টা পর রাত আড়াইটার দিকে একই ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের ব্যবসায়ী হরিদাস সরকারের বাড়িতে হানা দেয় ১০/১২ সদস্যের একটি মুখোশধারী ডাকাত দল। ডাকাতরা ঘরে ঢুকে হরিদাস সরকারের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং পরিবারের নারী ও শিশুদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে।
এসময় লুটপাটে বাধা দিলে ডাকাতরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে হরিদাস সরকার (৪০) ও তার ভাতিজা পিজুস সরকারকে (২২) কুপিয়ে আহত করে। ডাকাত দল ওই বাড়ি থেকে স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকাসহ প্রায় ৮ লক্ষাধিক টাকার মালামাল লুটে নেয়। আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায়ও হরিদাস সরকার বাদী হয়ে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। সর্বশেষ রাত ৩টার দিকে বরুনা সূতিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলীর বাড়িতে ডাকাতি হয়। ৮/৯ সদস্যের একটি ডাকাত দল ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে সবাইকে জিম্মি করে। তারা ঘর থেকে স্বর্ণালংকার ও মোবাইলসহ আরও ৫ লক্ষাধিক টাকার মালামাল নিয়ে চম্পট দেয়। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেছেন।
একই রাতে দেড় ঘণ্টার ব্যবধানে তিনটি সফল ডাকাতির ঘটনায় পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাতের টহল জোরদার না থাকায় ডাকাতরা নির্বিঘ্নে এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে গিয়ে লুটপাট চালাতে পেরেছে।
এ বিষয়ে রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন,খবর পাওয়া মাত্রই পুলিশ ঘটনাস্থলগুলো পরিদর্শন করেছে। আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নেওয়া হয়েছে। ডাকাতি হওয়া মালামাল উদ্ধার এবং এই চক্রটিকে চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ করছে। আশা করছি দ্রুতই আমরা অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে পারব।



