খালেদা জিয়ার মাগফিরাত কামনায় কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিল
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:০৮ পিএম
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনায় স্মরণ সভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করেছে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) সকাল ১১টার দিকে কিশোরগঞ্জ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী ক্যাম্পাসে এ দোয়া মাহফিল আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি তার রাজনৈতিক সংগ্রাম ও দেশবাসীর জন্য ত্যাগের কথা স্মরণ করা হয়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার নায়লা ইয়াসমিনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া। স্মরণ সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন- উপউপাচার্য ড. মো. সফিকুল ইসলাম, ট্রেজারার অধ্যাপক মো. ইমান আলী। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা এবং কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন।
সভায় বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ও কর্মের ওপর গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে আলোকপাত করে উপাচার্য ড. দিলীপ কুমার বড়ুয়া বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার দৃঢ়তা, মননশীল আচরণ ও ন্যায়ভিত্তিক প্রজ্ঞা তাকে নৈতিক উচ্চতার এক অনন্য দৃষ্টান্তে পরিণত করেছে। শত প্রতিকূলতার মাঝেও তিনি কখনো অসৌন্দর্যপূর্ণ ভাষার আশ্রয় নেননি এবং সর্বদা ন্যায়ভিত্তিক আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এ কারণেই তিনি জাতীয় ঐক্যের প্রতীক হিসেবে মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস অর্জন করেছিলেন।
তিনি আরও বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের সবচেয়ে বড় গুণ ছিল তার বিনয়। তিনি কখনো নিজেকে ইতিহাসের নায়ক হিসেবে উপস্থাপন করেননি, বরং ক্ষমতার ভাষার পরিবর্তে নীরব সহিষ্ণুতায় বিশ্বাস করেছেন। বিরোধী রাজনীতির মধ্যেও ব্যক্তিগত আক্রমণ পরিহার করে নীতিগত অবস্থানে দৃঢ় থাকার যে দৃষ্টান্ত তিনি রেখে গেছেন, তা আজকের রাজনৈতিক বাস্তবতায় ক্রমেই বিরল হয়ে উঠছে। তার নেতৃত্বের মাহাত্ম্য এখানেই যে, নেতৃত্ব মানে কণ্ঠ উঁচু করা নয়, বরং দায়িত্ব বহন করা; নেতৃত্ব মানে প্রতিশোধ নয়, বরং ধৈর্য এবং নেতৃত্ব মানে নিজেকে বড় করা নয়, বরং প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করা।
বেগম খালেদা জিয়ার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে উপউপাচার্য ড. মো. সফিকুল ইসলাম বলেন, বেগম খালেদা জিয়া শুধু একটি রাজনৈতিক দলের নেত্রী ছিলেন না। তিনি ছিলেন সমগ্র বাংলাদেশের অভিভাবকস্বরূপ এক ব্যক্তিত্ব। সার্বভৌমত্ব ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে তিনি কখনো আপোষ করেননি। একজন গৃহিণী থেকে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদের নেতৃত্বে উঠে আসার তার জীবনগাঁথা দেশের রাজনীতিতে এক বিরল দৃষ্টান্ত।
তিনি আরও বলেন, দলের প্রয়োজনে জেলা, উপজেলা ও থানা পর্যায়ে সংগঠন গড়ে তুলতে তিনি অসাধারণ সাংগঠনিক দক্ষতা ও অপার মমতার পরিচয় দিয়েছেন। তিনি কখনো ক্ষমতা আঁকড়ে ধরেননি। বরং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত জনমুখী রাজনীতি ও শোভন আচরণের মাধ্যমে সমানভাবে জনপ্রিয় ছিলেন। বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার উন্নয়নে তার অবদান অনন্য। তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রণয়ন এবং স্বৈরাচারবিরোধী সকল গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার জীবনের সমাপ্তি আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, ক্ষমতা ক্ষণস্থায়ী হলেও চরিত্র চিরস্থায়ী, এবং সময়ের বিচারে মানুষ শেষ পর্যন্ত মানবিকতা, বিনয় ও সহনশীলতাকেই স্মরণে রাখে।



