দেশে ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল : উপদেষ্টা আদিলুর রহমান
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ১৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৫:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত, শিল্প, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশে একটি ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা জোর করে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। মানুষের ভোটাধিকার ছিল না, জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে শাসন চলছিল। সেই অবস্থা থেকে মুক্তি পেতেই জুলাই-আগস্টে আবাবিল পাখির মতো ছাত্র-জনতা রাস্তায় নেমে আসে। এটি আল্লাহর রহমত ছিল।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুর কুলিয়ারচর উপজেলা পরিষদ মাঠে ভোটের গাড়ি উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
এসময় তিনি বলেন, আজকের এই আয়োজন মূলত এখানে উপস্থিত স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময়ের জন্য। বিশেষ করে ভোটের গাড়ি কর্মসূচি সারা দেশেই পরিচালিত হচ্ছে, যাতে মানুষ বুঝতে পারে গণভোট কী এবং এটি কীভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
উপদেষ্টা আরও বলেন, সেই সময় সারাদেশে এক ধরনের আতঙ্কের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। মানুষের মনে প্রশ্ন ছিল, দেশ কোথায় যাবে, মানুষ বাঁচবে কি না। আয়নাঘরে বন্দি করে রাখার মতো পরিস্থিতি চলছিল। ঠিক তখনই ছাত্ররা রাজপথে নেমে আসে এবং বাংলাদেশকে মুক্ত করে। এতে অনেক শহীদ হয়েছেন, হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, সেই জুলাই যোদ্ধাদের উদ্যোগেই একটি সরকার গঠিত হয় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা রাজনৈতিক দলগুলোকে নিয়ে আলোচনা করে জুলাই সনদ স্বাক্ষরিত হয়। এই সনদে এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে, যা দেশের মানুষের দীর্ঘদিনের আকাঙ্কা পূরণ করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি ভালো বাংলাদেশ গড়ে তুলবে।
এই জুলাই সনদ বাস্তবায়নের লক্ষ্যেই আগামী ১২ তারিখে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং একই সঙ্গে সাধারণ নির্বাচনও হবে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, অতীতে মানুষ নিজের ইচ্ছেমতো ভোট দিতে পারেনি। দিনের ভোট রাতে হয়ে গেছে, একজনের জায়গায় আরেকজন ভোট দিয়ে দিয়েছে। সেই দিন আর নেই।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এবার দুটি ভোট হবে। একটি গোলাপি ব্যালট পেপারে গণভোট। সেখানে ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’-এর জায়গায় হাতে সিল দিতে হবে, টিক চিহ্ন নয়। ‘হ্যাঁ’ ভোটের মাধ্যমে মানুষের অধিকার বাস্তবায়নের পথ সুগম হবে। আর যারা ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে থাকবে না, তারা এই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। অন্য ভোটটি হবে নিজেদের পছন্দের প্রতিনিধি নির্বাচনের জন্য।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ২০২৬ সাল থেকে ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, পৌরসভাসহ স্থানীয় সরকারের সব নির্বাচন শুরু হবে। এই নির্বাচন দিয়েই সেই প্রক্রিয়ার সূচনা হবে।
শেষে তিনি বলেন, দেশের চাবি জনগণের হাতেই রাখতে হবে। দেশের মালিকানা যেন জনগণের হাতেই থাকে, সেটা সবাইকে বুঝে নিতে হবে। মানুষ যদি নিজের মালিকানা বুঝে না নেয়, তাহলে অন্যরা তাদের নামে দেশ চালাবে। আর মানুষ যদি বুঝে নেয়, তাহলে তারাই দেশ পরিচালনা করবে।



