Logo
Logo
×

সারাদেশ

ভিসার ফাঁদে সর্বস্বান্ত

৮ কোটি টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র

Icon

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম

৮ কোটি টাকা নিয়ে উধাও প্রতারক চক্র

ভিসার ফাঁদে সর্বস্বান্ত কয়েক পরিবার, (ইনসেটে প্রতারক চক্রের সদস্য মিজান)।

অস্ট্রেলিয়ায় উন্নত জীবনের হাতছানি দেখিয়ে কুড়িগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলার অন্তত ১০০ মানুষের কাছ থেকে প্রায় আট কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে একটি সংঘবদ্ধ প্রতারকচক্র। মাসে তিন লাখ টাকা বেতনের চাকরির মিথ্যা আশ্বাস দিয়ে টাকা আদায়ের পর চক্রটির মূল হোতারা এখন আত্মগোপনে। নিঃস্ব ভুক্তভোগীরা টাকা ফেরত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার সন্তোষপুর ইউনিয়নের জগজুল্লিপাড়া গোপালপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের ছোট ছেলে জাহিদ হাসান এই প্রতারণার শিকারদের একজন। চার সন্তানের মধ্যে জাহিদ পড়াশোনায় খুব একটা এগোতে না পারলেও জীবিকার তাগিদে ট্রাক চালকের কাজ করতেন। অস্ট্রেলিয়ায় কৃষিভিসায় যাওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে মাসে তিন লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দেয় প্রতারকচক্রটি। ছেলের ভবিষ্যতের আশায় পরিবারটি আবাদি জমি ও গরু বিক্রি করে দুই ধাপে প্রায় নয় লাখ টাকা তুলে দেয় দালালদের হাতে।

কিন্তু এক বছর পার হয়ে গেলেও ভিসা বা বিদেশযাত্রার কোনো অগ্রগতি নেই। উল্টো প্রতারকরা একের পর এক তারিখ দিয়ে টালবাহানা চালিয়ে যাচ্ছে। হতাশ জাহিদের বাবা আব্দুল হামিদ বলেন, ছেলের জন্য সব শেষ করেছি। এখন তারা উধাও। শুধু আশ্বাস আর তারিখ।

একই এলাকার আকবর মাস্টারের ছেলে ফারুক, আমান আলীর ছেলে মোহাম্মদ শফি, ইমান আলীর ছেলে ফারুকসহ সন্তোষপুর ইউনিয়ন ও আশপাশের এলাকার অন্তত ৫০ জন মানুষ একই কৌশলে প্রতারিত হয়েছেন। প্রত্যেকে আট থেকে দশ লাখ টাকা করে দিয়ে আজ সর্বস্বান্ত।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতারকচক্রের মূল হোতা সন্তোষপুর ইউনিয়নের জয়নাল ডাক্তারের জামাই, পাবনা জেলার বাসিন্দা মিজান মিয়া। তার সঙ্গে সক্রিয় সহযোগী হিসেবে ছিলেন স্ত্রী বিলকিস, বিলকিসের বড় ভাই আব্দুর রহিম এবং স্থানীয় অপু। ঘটনা প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই মিজান মিয়া ও বিলকিস পলাতক। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় সহযোগী অপুও বাড়িতে তালা দিয়ে পালিয়ে যান। বিলকিস ও অপুর ব্যবহৃত দুটি মোবাইল নম্বর বর্তমানে বন্ধ পাওয়া গেছে।

এ বিষয়ে মিজানের শ্বশুর জয়নাল ডাক্তার বলেন, মেয়েজামাই টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। সবাইকে ধৈর্য ধরতে বলেছে। 

তবে অভিযুক্তের স্বজন আব্দুর রহিম অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি নিজেও প্রতারিত। এসব অভিযোগ সত্য নয়।

এদিকে বিদেশগামীদের দালালচক্র থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ। কুড়িগ্রামের পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন