Logo
Logo
×

সারাদেশ

বাংলা চ্যানেল পাড়ি ২০তম আসরে প্রথম সাইফুল

Icon

কক্সবাজার প্রতিনিধি :

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৬:৪৫ পিএম

বাংলা চ্যানেল পাড়ি ২০তম আসরে প্রথম সাইফুল

ছবি : সংগৃহীত

কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীরদ্বীপ থেকে প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিনের ১৬ দশমিক ১ কিলোমিটার সাগরের নাম ‘বাংলা চ্যানেল’। যে সাগর সাঁতার কেটে ৪ ঘন্টা ১৫ মিনিটে অতিক্রম করে ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’ আয়োজিত ২০ তম বাংলা চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতায় প্রথম হয়েছেন ঢাকসুর সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল।

শনিবার সকাল ৯ টা ৩৫ মিনিটে শাহপরীর দ্বীপ পশ্চিম সমুদ্র সৈকত থেকে সাঁতার শুরু হয়। দুপুর ১ টা ১৫ মিনিটে দ্বীপের উত্তর পাড়ায় পৌঁছে তিনি প্রথম হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। এর আগে তিনি একবার ডাবল ক্রস ছাড়াও ছয় বার বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছেন। সবশেষ ২০২৩ সালে তিনি ৩ ঘণ্টা ৫০ মিনিটে বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়ে প্রথম হয়েছিলেন।

একই সঙ্গে ৪ ঘন্টা ৫৫ মিনিট সাঁতার কেটে চ্যানেলটি পাড়ি দিয়ে যৌথভাবে দ্বিতীয় হয়েছেন মো. ফয়সাল আহমেদ ও মো. তৈফিকুজ্জামান। ৫ ঘন্টা ৫ মিনিটে পৌছে তৃতীয় হয়েছেন হাফিজুর রহমান।

‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’ আয়োজিত ২০ তম বাংলা চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতায় শনিবার ৯ টা ৩৫ মিনিটে শুরু হয়। যেখানে ২ নারী সহ ৩৫ জন অংশ নিলেও সফল হয়েছে ২ নারী সহ ২০ জন। অপর ১৫ জন নানা কারণে টেকনাফ শাহপরীর দ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিন নৌপথে স্রোতোধারা ‘বাংলা চ্যানেল’ সাঁতার কেটে অতিক্রম করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

সাঁতারে অংশ নেয়া দুই নারী হলেন ঢাকা ডেপুটিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী ফেরদৌসী আক্তার এবং এর আগে বাংলা চ্যানেল সফলভাবে পাড়ি দেয়া প্রথম নারী এমএসটি সোহাগী আক্তার।

সাঁতার উদ্বোধনে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা আলাউদ্দীন। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের আওতায় এবং ক্রীড়া পরিদপ্তরের পৃষ্ঠপোষকতায় তারুণ্যের উৎসবের অংশ হিসেবে ‘ষড়জ অ্যাডভেঞ্চার’ এ প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়।

এবার প্রথম হওয়া ঢাকসুর সাবেক সদস্য সাইফুল ইসলাম রাসেল বলেন, 'এর আগে ছয়বার বাংলা চ্যানেল সাঁতরে পাড়ি দিয়েছি। গত ২০২১ সালে বাংলা চ্যানেল একসঙ্গে ডাবল পাড়ি দিয়েছি। আজ সাগর অনেকটা প্রতিকূল স্বত্বেও প্রথম হওয়া গৌরবের।

‘কিং অব বাংলা চ্যানেল’ খ্যাত ২০ বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেয়া সাঁতারু  এবং ষড়জ অ্যাডভেঞ্চারের প্রধান নির্বাহী লিপটন সরকার বলেন, এবার দুইজন নারীসহ ৩৫ জন সাঁতারু অংশ নিয়েছেন। এই সাঁতার আন্তর্জাতিক রীতি মেনে পরিচালনা করা হচ্ছে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থাও নেওয়া ছিল। প্রত্যেক সাঁতারুর জন্য বোট ও উদ্ধারকর্মী ছিল। বাংলা চ্যানেল সাঁতারকে আন্তর্জাতিক করতে পেরেছি। এবারের আয়োজনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক ঢাকা ব্যাংক পি.এল.সি ও ডাইনামিক ডেন্টিস্ট্রি। ইভেন্ট পার্টনার হিসেবে রয়েছে ভিসাথিং, স্টুডিও ঢাকা এবং সরকার এগ্রো। ২০ জন সফলভাবে পাড়ি দিয়েছেন।

জানা যায়, প্রথমবার বাংলা চ্যানেল অভিযান পরিকল্পনার নায়ক স্কুবা ডাইভার ও চিত্রগ্রাহক মরহুম কাজী হামিদুল হক। তার পরিকল্পনায় ২০০৬ সালের ১৪ জানুয়ারী লিপটন সরকার, ফজলুল কবির সিনা ও সালমান সাঈদ প্রথম বাংলা চ্যানেল পাড়ি দেন। লিপটন সরকার এ পর্যন্ত ২০ বার বাংলা চ্যানেল পাড়ি দিয়েছেন। গত ২০১২ সালে নেদারল্যান্ডের সাঁতারো ইংলিশ চ্যানেল বিজয়ী ভ্যান গুল মিলকো এ চ্যানেল পাড়ি দেন। সে বছর থেকে বাংলা চ্যানেল সাঁতারের নাম ‘ইন্টারন্যাশনাল ওপেন ওয়াটার লং ডিসটেন্স সুইমিং’ তালিকাভূক্ত হয়।

পানিতে ডুবে মৃত্যু থেকে রক্ষা পেতে এবং মানুষের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টিতে গুরুত্ব আরোপ করতে এ সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। স্পোর্টস অ্যাডভেঞ্চারকে উৎসাহিত করে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতের পাশাপাশি এই চ্যানেলকে আন্তর্জাতিকভাবে আরো বেশি পরিচয় করার লক্ষ্যে গত ২০ বছর ধরে এই আয়োজন করা হচ্ছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন