নিকলীতে প্রশাসনের লাল নিশান সরিয়ে ১৫০ একর সরকারি চর দখলের অভিযোগ
অনলাইন ডেস্ক :
প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:০৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় ঘোড়াউত্রা নদীর তীরে জেগে ওঠা প্রায় ১৫০ একর সরকারি খাস জমির চর দখলের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক দলের কিছু প্রভাবশালীর সহায়তায় প্রশাসনের টানানো লাল নিশান সরিয়ে সেখানে পুনরায় চাষাবাদের চেষ্টা চলছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নিকলীর ছাতিরচর ও গুরই ইউনিয়নের বেয়াতিরচর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে চরের দখল নিয়ে প্রতিবছরই উত্তেজনা ও সংঘর্ষ ঘটে। চলতি মৌসুমেও পানি নামার পর নতুন করে বিরোধ শুরু হয়েছে। গত ১৮ নভেম্বর জমি দখলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। এতে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহৃত হয় এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথ বাহিনী মোতায়েন করতে হয়। সংঘর্ষের পর প্রায় এক মাস গুরুত্বপূর্ণ খেয়াঘাট বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়ে সাধারণ মানুষ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে গত ২৫ ডিসেম্বর উপজেলা প্রশাসন যৌথ বাহিনীর সহায়তায় ১৫০ একর খাস জমিতে লাল পতাকা টানিয়ে সরকারি দখল নেয়। তবে অভিযোগ রয়েছে, সম্প্রতি বেয়াতিরচর এলাকার কিছু ব্যক্তি সেই লাল পতাকা সরিয়ে আবার জমিতে চাষাবাদ ও ড্রেন নির্মাণ শুরু করেছে।
ছাতিরচরের বাসিন্দারা জানান, বাধা দিতে গেলে তাদের হুমকি ও অপমান করা হচ্ছে। এতে নতুন করে সংঘর্ষের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ছাতিরচর গ্রামের বাসিন্দা হিমেল খান বলেন, সরকার খাসজমি উদ্ধার করে লাল পতাকা টানিয়ে দখল নিলেও বেয়াতিরচরের কিছু লোক আবার সেখানে চাষাবাদের চেষ্টা করছে। তারা লাল পতাকা সরিয়ে ড্রেন নির্মাণ করায় এলাকায় উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা ফারুক বলেন, সরকারি সিদ্ধান্ত অমান্য করে বেয়াতিরচরের লোকজন চর দখলের পায়তারা করছে। নতুন এই চর ছাতিরচরের কাছাকাছি হওয়ায় ভোগের অধিকার তাদেরই। দূর থেকে এসে নদী পার হয়ে চর দখলের কোনো অধিকার বেয়াতিরচরের লোকজনের নেই। এতে এলাকায় বিশৃঙ্খলা বাড়ছে।
বৃদ্ধ কৃষক শামসুল ইসলাম বলেন, চর দখলে বাধা দিলে তাদের রাস্তা আটকে হুমকি ও অপমান করা হচ্ছে। এতে গ্রামের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়ছে।
বেয়াতিরচরের বাসিন্দা মো. শহীদুল ইসলাম (৫৫) বলেন, এতদিন জমিটিকে ব্যক্তিগত মনে করলেও এখন বুঝেছেন এটি খাসজমি। প্রশাসনের সিদ্ধান্ত তারা মেনে চলবেন।
এ বিষয়ে বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানের সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, চরটি যৌথবাহিনীর মাধ্যমে লাল নিশান টানিয়ে উদ্ধার করা হয়েছে। এখন কেউ দখলের চেষ্টা করলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।



