রাবিতে চতুর্থ আন্তঃবিভাগ তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতার উদ্বোধন
রাবি প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ১২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের উদ্যোগে শুরু হয়েছে ৪র্থ আন্তঃবিভাগ তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতা–২০২৬। চার দিনব্যাপী এই প্রতিযোগিতায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ২৬টি বিভাগ থেকে মোট ১০৮ জন শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করছেন। বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ওজন ও ক্যাটাগরিতে অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ক্রীড়ানৈপুণ্য প্রদর্শন করবেন।
রবিবার (১১ জানুয়ারি) বিকাল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জিমনেসিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ তায়কোয়ানডো ফেডারেশনের সভাপতি মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোসা. রোকসানা বেগম, আন্তঃবিভাগ গেমস সাব-কমিটি ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেনসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও শিক্ষার্থীরা।
স্বাগত বক্তব্যে শরীরচর্চা শিক্ষা বিভাগের পরিচালক মোসা. রোকসানা বেগম বলেন, “তায়কোয়ানডোকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায়, সে বিষয়ে আজকের প্রধান অতিথির দিকনির্দেশনা আমরা প্রত্যাশা করি। তাঁর মূল্যবান সময় দিয়ে আমাদের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হওয়ায় আমরা কৃতজ্ঞ।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আন্তঃবিভাগ গেমস সাব-কমিটি ২০২৫-২৬-এর সভাপতি ও কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল হোসেন বলেন, “শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি এক্সট্রা-কারিকুলার কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। খেলাধুলা শিক্ষার্থীদের মননশীলতা ও শারীরিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সেই লক্ষ্যেই এই তায়কোয়ানডো প্রতিযোগিতার আয়োজন।”
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ বলেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। উদ্বোধনের আগে প্রদর্শিত তায়কোয়ানডো ডেমোনস্ট্রেশন তাঁর কাছে খুবই প্রশংসনীয় লেগেছে বলেও জানান তিনি। সম্প্রতি চীনে অনুষ্ঠিত একটি আন্তর্জাতিক তায়কোয়ানডো অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সুযোগ পেলেও সেখানে বাংলাদেশের কোনো প্রতিনিধি না থাকায় হতাশার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, বর্তমানে বিশ্ব তায়কোয়ানডো র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৭তম, যেখানে মিয়ানমার ও যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনের মতো দেশও এগিয়ে রয়েছে। এই অবস্থা থেকে উত্তরণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তায়কোয়ানডোর সঙ্গে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তায়কোয়ানডোর উন্নয়নে মেধার সংযোগ ঘটানোর ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, চীন ইতোমধ্যে এ খেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহার করে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তরুণ শক্তিকে কাজে লাগাতে পারলে তায়কোয়ানডোতে দেশ বড় শক্তি হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ থেকে শিক্ষার্থীরা এই খেলায় অংশ নেবে এবং দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পরিসরে তায়কোয়ানডোর মাধ্যমে রাবির নাম সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হবে।



