হাড়কাঁপানো শীতে কাঁপছে পঞ্চগড়, তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছে ৬.৯ ডিগ্রিতে
পঞ্চগড় প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৬ পিএম
পঞ্চগড়ে জেঁকে বসেছে তীব্র শীত। ঘন কুয়াশা আর উত্তরের হিমেল বাতাসে হিমালয় পাদদেশের এই জেলার স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) ভোরে তেঁতুলিয়ায় চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস।
তীব্র শীতের কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ, দিনমজুর, যানবাহন চালক, শিশু ও বয়স্করা। কনকনে ঠান্ডায় অনেকেই ভোরবেলায় কাজে বের হতে পারছেন না।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, শুক্রবার ভোর ৬টায় তাপমাত্রা নেমে আসে ৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। এ সময় বাতাসের আর্দ্রতা ছিল ১০০ শতাংশ এবং বাতাসের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সকাল ৯টায় সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ৯ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস, আর দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ১৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তারও আগে বুধবার (৭ জানুয়ারি) সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নেমেছিল ৭ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে এবং সর্বোচ্চ ছিল ২০ ডিগ্রি।
গত কয়েক দিন ধরে দুপুরের পর সূর্যের দেখা মিললেও কাঙ্ক্ষিত উষ্ণতা মিলছে না। শুক্রবার ভোর থেকেই জেলা শহর ও গ্রামীণ এলাকার সড়ক-মহাসড়ক ঘন কুয়াশায় ঢেকে যায়। কুয়াশার কারণে দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে এবং চালকদের ধীরগতিতে গাড়ি চালাতে দেখা গেছে।
টানা শীত ও কুয়াশার প্রভাবে জেলার বিভিন্ন এলাকার দিনমজুর ও নিম্ন আয়ের মানুষ চরম সংকটে পড়েছেন। শীত নিবারণের জন্য ভোর থেকে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন স্থানে খড়কুটো, শুকনো পাতা ও কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহাতে দেখা গেছে অনেককে।
তেঁতুলিয়া আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জিতেন্দ্রনাথ রায় জানান, গত কয়েক দিন ধরে তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রার ওঠানামা অব্যাহত রয়েছে। উত্তরের হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশার কারণে শীতের তীব্রতা বেড়েছে এবং আগামী কয়েক দিন এই পরিস্থিতি বজায় থাকতে পারে বলে তিনি জানান।



