Logo
Logo
×

সারাদেশ

স্ত্রী কিডনি দিতে প্রস্তুত, অর্থের অভাবে হচ্ছে না প্রতিস্থাপন

Icon

অনলাইন ডেস্ক :

প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪৩ পিএম

স্ত্রী কিডনি দিতে প্রস্তুত, অর্থের অভাবে হচ্ছে না প্রতিস্থাপন

ছবি : সংগৃহীত

চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিনগর গ্রামের শাহাদাতের দুইটি কিডনি ড্যামেজ হয়ে গেছে। তিনি এখন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন। তাকে বাঁচাতে তার স্ত্রী কিডনি দিতে প্রস্তুত কিন্তু অর্থের অভাবে হচ্ছে না প্রতিস্থাপন।

শাহাদাত (৩০) দর্শনা পৌর এলাকার শান্তিনগর মৃত মোজাহারের ছেলে। কিছুদিন আগেও যিনি সুস্থ শরীরে ভ্যান চালিয়ে সংসারের চাকা সচল রেখেছিলেন। আজ তিনি হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে মৃত্যুর সঙ্গে প্রতিদিন লড়াই করছেন। কঠোর পরিশ্রমে দুই কন্যা সন্তানের মুখে হাসি ফোটানো সেই বাবাটির চোখে এখন শুধুই অসহায়ত্ব আর বাচার আকুতি।

দীর্ঘদিন ধরে কিডনি রোগে আক্রান্ত শাহাদাত বর্তমানে প্রায় ৮ থেকে ৯ মাস ধরে শয্যাশায়ী। উন্নত চিকিৎসার আশায় একাধিকবার ঢাকায় গিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা, চিকিৎসা ও নিয়মিত ডায়ালিসিস করাতে গিয়ে তার সব সঞ্চয় নিঃশেষ হয়ে গেছে। চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়েছে যা কিছু ছিল, এখন আর অবলম্বন বলতে কিছুই নেই।

চিকিৎসকদের মতে, শাহাদাতকে বাঁচানোর একমাত্র উপায় হলো কিডনি প্রতিস্থাপন (ট্রান্সপ্লান্ট)। এ অস্ত্রোপচারে প্রয়োজন প্রায় ৬ লাখ টাকা; কিন্তু দিনমজুর পরিবারের পক্ষে এই বিপুল অর্থের জোগান দেওয়া প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সবচেয়ে হৃদয়বিদারক বিষয় হলো- শাহাদাতের স্ত্রী দীপা আক্তার স্বেচ্ছায় নিজের কিডনি দিতে প্রস্তুত। স্বামীর জীবন বাঁচাতে নিজের শরীরের একটি অঙ্গ দিতেও তার কোনো দ্বিধা নেই। তবে নির্মম বাস্তবতা হচ্ছে- অপারেশনের প্রয়োজনীয় অর্থ না থাকায় সেই আত্মত্যাগও যেন আজ অসহায় হয়ে পড়েছে। অর্থের অভাব বারবার বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে শাহাদাতের জীবন রক্ষার পথে।

স্বামীর জীবন বাঁচাতে দীপা আক্তার এখন মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন। আত্মীয়-স্বজন, পরিচিতজন ও সহৃদয় মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছেন; কিন্তু এত বড় অঙ্কের টাকা এখনো সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি।

শাহাদাত বাঁচতে চান। দীপা চান তার স্বামীকে বাঁচাতে। আর দুটি নিষ্পাপ শিশু চায় তাদের বাবাকে বাঁচিয়ে রাখতে।

কিন্তু সবচেয়ে ভয়ংকর বাস্তবতা হলো, শাহাদাতের হাতে সময় খুবই অল্প। চিকিৎসকরা আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, দেরি হলে ঝুঁকি আরও বেড়ে যাবে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে কমে আসবে তার বাঁচার সম্ভাবনা।

অর্থের অভাবে কি থেমে যাবে শাহাদাতের জীবন। এতিম হয়ে যাবে কি দুটি নিষ্পাপ শিশু। কিডনি দিতে প্রস্তুত থেকেও কি স্বামীকে বাঁচাতে পারবেন না দীপা আক্তার। এ অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানো এখন সময়ের সবচেয়ে বড় মানবিক দায়িত্ব।

সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, জনপ্রতিনিধি ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা একান্ত প্রয়োজন। সামান্য আর্থিক সহায়তা ও সহানুভূতিই ফিরিয়ে দিতে পারে একটি পরিবারকে স্বাভাবিক জীবন, বাঁচাতে পারে একটি তরতাজা প্রাণ।

দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ওবায়দুর রহমান সাহেল বলেন, আমি আমার অবস্থান থেকে যতটুকু সম্ভব সহযোগিতা করব।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন