খতনার জন্য ভর্তি শিশুর মৃত্যুর অভিযোগে তদন্ত কমিটি
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৮ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:৫৫ এএম
চট্টগ্রাম নগরে খতনার জন্য ভর্তি করা মোহাম্মদ মোস্তফা নামে সাত বছরের এক শিশুর ভুল চিকিৎসায় মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। বুধবার (৬ জানুয়ারি) জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় এই তদন্ত কমিটি গঠন করে।
জেলা সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলমের সই করা নির্দেশনায় কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ তৌহিদুল আনোয়ারকে। সদস্য সচিব হিসেবে রয়েছেন সিভিল সার্জন কার্যালয়ের এমও (ডিসি) ডা. মো. নুরুল হায়দার। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন মীরসরাই উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (অ্যানেসথেসিয়া) ডা. মোহাম্মদ রাজিব হাসান, বোয়ালখালী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (সার্জারি) ডা. নিগহাত জাবীন এবং হাটহাজারী উপজেলা হেলথ কমপ্লেক্সের জুনিয়র কনসালট্যান্ট (শিশু) ডা. মো. রাশেদুল ইসলাম।
গত ৩ জানুয়ারি নগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতির সময় শিশু মোহাম্মদ মোস্তফার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়। পরে ওই রাতেই চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট দিয়ে শিশুটির স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তোলেন।
মোস্তফার বাড়ি চট্টগ্রামের বোয়ালখালী উপজেলার পূর্ব গোমদণ্ডি গ্রামে। তার বাবা আবু মুসা জানান, শনিবার সকালে তিনি ছেলেকে নগরের বহদ্দারহাট এক কিলোমিটার এলাকার সেইফ হেলথ কেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করান। বেলা সাড়ে তিনটার দিকে তাকে সার্জারি কক্ষে নেওয়া হয়। সন্ধ্যার দিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, শিশুটির অবস্থা আশঙ্কাজনক এবং দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা প্রয়োজন।
চমেক হাসপাতালে নেওয়ার পর মোস্তফাকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। রাত ১০টার দিকে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। মৃত্যুসনদে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাওয়াকে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবু মুসা অভিযোগ করে বলেন, অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারে ত্রুটির কারণেই তার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। তার ভাষায়, খতনার মতো একটি নিয়মিত চিকিৎসা প্রক্রিয়ায় সন্তানের প্রাণ হারানো তাদের জন্য মেনে নেওয়া অসম্ভব।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর প্রথমবার মোস্তফাকে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের কাছে দেখানো হয়। ব্যবস্থাপত্রে তার প্রস্রাবের রাস্তায় জন্মগত ত্রুটি ‘গ্ল্যানুলার হাইপোস্প্যাডিয়াস’ শনাক্ত করা হয়। সেখানে খতনা ও ছোট পরিসরের একটি অস্ত্রোপচারের কথা উল্লেখ ছিল এবং জেনারেল অ্যানেসথেসিয়া ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের শিশু সার্জারি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মোহাম্মদ জুনাইদ চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা চলছিল বলে জানিয়েছে পরিবার।



