Logo
Logo
×

সারাদেশ

১৯ বছর পর কুতুবদিয়ার ছাত্রলীগ নেতা রুবেল হত্যা মামলার রায়, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

Icon

কক্সবাজার প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ০৮:১২ পিএম

১৯ বছর পর কুতুবদিয়ার ছাত্রলীগ নেতা রুবেল হত্যা মামলার রায়, ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড

দীর্ঘ ১৯ বছর ২ মাস ২৩ দিন পর কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের নেতা এরশাদুল হাবিব রুবেল হত্যা মামলার রায় প্রদান করেছে আদালত। এতে ৪ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে ৪ জনকে খালাস দিয়েছে আদালত।

বুধুবার দুপুরে চট্টগ্রামের দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. হেমায়েত উদ্দিন এ রায়টি ঘোষণা করেন বলে জানান নিহত রুবেলের ছোট্ট ভাই এবং মামলার পরবর্তি বাদি সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবি ব্যারিস্টার মোহাম্মদ হানিফ বিন কাশেম।

নিহত এরশাদুল হাবিব রুবেল কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ ইউনিয়নের মাতবর পাড়ার মৃত মোহাম্মদ কাশেম মাতবরের ছেলে। তিনি ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর সন্ধ্যায় বড়ঘোপ বাজার থেকে ফেরার পথে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। ওই সময় তিনি কুতুদিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতির ছিলেন এবং ওমরগণি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের সদস্য ছিলেন।

এ মামলার মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বড়ঘোপ ইউনিয়নের মাতবর পাড়ার মোহাম্মদ ইউসুফ মাতবরের ছেলে রুস্তম মাতবর, গোলাম মোস্তফার ছেলে সোহেল মাতবর, আবু তাহের চৌধুরীর ছেলে মো: জুয়েল মাতবর ও মোহাম্মদ তাহের মাতবরের ছেলে মো, ফরহাদ মাতবর।

দন্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে ফরহাদ কারাগারে থাকলেও অপর ৩ জন দেশের বাইরে পলাতক রয়েছে।

খালাসপ্রাপ্ত ৪ জন হলেন, সাজ্জাদ,আরাফাত এবং ছোটন ও সৈয়দ।

মামলার বাদির দেয়া তথ্য, আদালতের নথিপত্রে প্রাপ্ত তথ্য মতে, ২০০৬ সালের ১৫ অক্টোবর কুতুবদিয়ার বড়ঘোপ এলাকায় সম্পত্তির লোভে ও রাজনৈতিক জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে গুলি ও কুপিয়ে এরশাদুল হাবীব রুবেলকে হত্যা করা হয়। এ ঘটনার দুইদিন পরে ১৭ অক্টোবর মা মমতাজ সুফিয়া আক্তার প্রকাশ শেফালী ১৮ জনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

২০০৮ সালে কুতুবদিয়া থানা পুলিশ আদালতে ৮ জনকে আসামি করে অভিযোগপত্র জমা দেন। আদালত র শুনানি শেষে ৮ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন। ২০১০ সালে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হয়।

এরমধ্যে ২০১৫ সালের ১৩ নভেম্বর মামলার বাদী মমতাজ সুফিয়া আক্তার প্রকাশ শেফালী মৃত্যুবরণ করেন।

২০২১ সালের ২১ জানুয়ারি আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আবেদনের প্রেক্ষিতে মামলার বাদীর জায়গায় স্থলাভিষিক্ত হন রুবেলের ছোট ভাই ব্যারিস্টার মো. হানিফ বিন কাশেম। মামলার পরবর্তী ধার্য তারিখে একই বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজার অতিরিক্ত দায়রা জজ আদালতে অনুমতিপত্র জমা দিলে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়। আদালতের এজলাসের বাইরে এসে ব্যারিস্টার মো.হানিফ বিন কাশেমকে তারা ঘিরে ফেলে এবং মামলা পরিচালনা করা বা মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট থাকলে হত্যা করে মরদেহ গুম করার হুমকি দেয়। একইদিন নিরাপত্তাহীনতার কারণে ব্যারিস্টার মো.হানিফ বিন কাশেম কক্সবাজার সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। তদন্ত কর্মকর্তা একই বছরের ২০ মার্চ তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করলে থানায় মামলা হিসেবে গ্রহণ করা হয়।

এর প্রেক্ষিতে ২০২৩ সালে মামলাটি  চট্টগ্রাম জজ আদালতে স্থানান্তর করা হয়।

ব্যারিস্টার মো. হানিফ বিন কাশেম বলেন, প্রায় বিশ বছর পর তার ভাই হত্যার রায়ে ৪ জনকে ফাঁসি ও ৪ জনকে খালাস দেয়ার আদেশে তারা পুরোপুরি সন্তুষ্ট নন। রাস্ট্রপক্ষ এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলেও জানান তিনি।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন