Logo
Logo
×

সারাদেশ

তীব্র শীতে নাকাল উত্তরবঙ্গ, অর্ধেকে নেমেছে শ্রমজীবীদের আয়

Icon

বগুড়া প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৭ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৯ পিএম

তীব্র শীতে নাকাল উত্তরবঙ্গ, অর্ধেকে নেমেছে শ্রমজীবীদের আয়

হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গের শ্রমজীবী মানুষ। কনকনে ঠান্ডা আর ঠান্ডা বাতাসের কারণে মাঠে বা নদীতে দীর্ঘ সময় কাজ করতে পারছেন না তারা। ফলে কর্মঘণ্টা কমার সঙ্গে সঙ্গে আয়ও কমে এসেছে প্রায় অর্ধেকে।

দেশের উত্তরাঞ্চলের অধিকাংশ জেলায় বর্তমানে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টায় রংপুরে তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে ১১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি কম। পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমেছে ৮ দশমিক ৬ ডিগ্রিতে, যা গত বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি কম।

এ ছাড়া নীলফামারীর সৈয়দপুরে ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি, ডিমলায় ৪ দশমিক ২ ডিগ্রি, দিনাজপুরে ৪ দশমিক ২ ডিগ্রি, ঠাকুরগাঁওয়ে ২ দশমিক ৮ ডিগ্রি, লালমনিরহাটে ৪ ডিগ্রি এবং গাইবান্ধায় ৩ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা কমেছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, এ বছর একই সময়ে উত্তরবঙ্গে তাপমাত্রা ২ দশমিক ৮ থেকে ৪ দশমিক ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কম রেকর্ড হয়েছে।

তাপমাত্রা কমে যাওয়ায় সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন দিনমজুর, কৃষিশ্রমিক, নৌকার মাঝি ও ভ্যানচালকেরা। তীব্র শীতের মধ্যেও অনেককে জীবিকার তাগিদে কাজে নামতে হচ্ছে।

পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ার ভ্যানচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, গত বছর এই সময় এত শীত ছিল না। দিনে মাঝেমধ্যে সূর্যের আলো দেখা যেত। কিন্তু এবার সূর্যের দেখা নেই, শীতও বেশি। শীতের কারণে বেশিক্ষণ ভ্যান চালানো সম্ভব হয় না।

গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার নৌকার মাঝি আব্দুল মোত্তালিব বলেন, সকালে এত ঘন কুয়াশা থাকে যে নিজের হাত পর্যন্ত দেখা যায় না। নদীতে নৌকা নিয়ে এসেও যাত্রী পাওয়া যায় না।

তিনি জানান, গরমের সময় সকাল ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত কাজ করে দিনে এক থেকে দুই হাজার টাকা আয় হতো। এখন শীতের কারণে সকাল ১১টার আগে কাজ শুরু করা যায় না, আর বিকেল ৪টার মধ্যেই ফিরতে হয়। ফলে দৈনিক আয় নেমে এসেছে ৪০০ থেকে ৮০০ টাকায়।

উত্তরবঙ্গের আলুক্ষেতে এখন মাটি ভরার কাজ চললেও সকালে শ্রমিকের উপস্থিতি কম। ঠান্ডা বাতাস আর সূর্যের আলো না থাকায় মাঠে থাকা কঠিন হয়ে পড়েছে।

গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার রাজস গ্রামের কৃষক আব্দুল হামিদ বলেন, সকালে শীতের সঙ্গে ঠান্ডা বাতাস যোগ হয়ে মাঠে থাকা কষ্টকর হয়ে যায়। সূর্যের আলো না থাকায় বিকেল ৪টার আগেই অন্ধকার নেমে আসে। ফলে শ্রমিকরা নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই কাজ শেষ করে বাড়ি ফিরে যান।

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার বাটির চর এলাকার বাসিন্দা মামুনুর রাশিদ বলেন, চরাঞ্চল খোলা জায়গা হওয়ায় শীত বেশি অনুভূত হয়। তাই অনেকেই মাঠে কাজের বদলে বাড়িতেই বেশি সময় কাটাচ্ছেন।

তীব্র শীতের কারণে বড় ধানের ছড়া হলুদ ও সাদা হয়ে যাচ্ছে। নতুন করে বপন করা বীজ থেকেও চারাগাছ বের হচ্ছে না। অনেক ক্ষেতেই বীজ নষ্ট হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কৃষকেরা।

রংপুর আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ মোস্তাফিজার রহমান বলেন, এই পরিস্থিতি আগামী তিন দিন উত্তরবঙ্গে অব্যাহত থাকতে পারে। এরপর ধীরে ধীরে দিনের তাপমাত্রা বাড়বে এবং রাতের তাপমাত্রা কিছুটা কমবে। তবে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য খুব বেশি হবে না।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন