দ্বৈত নাগরিকত্ব বিতর্কের মধ্যেই ফেনী-৩ আসনে মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা
ফেনী প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৪৪ পিএম
ফেনী-৩ (সোনাগাজী–দাগনভূঞা) আসনে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ও দলীয় প্রার্থী আবদুল আউয়াল মিন্টুর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন। গত রোববার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে এ ঘোষণা দেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মনিরা হক।
তবে দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়টির চূড়ান্ত সুরাহা না হওয়া সত্ত্বেও মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে। একই অভিযোগে একাধিক প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও বর্ধিত সময়ের মধ্যেও নাগরিকত্ব ত্যাগের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ার পরও মিন্টুর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।
মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ের দিন ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে আবদুল আউয়াল মিন্টুর দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে আপত্তি জানান জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুর রহিম। আপত্তির জবাবে রিটার্নিং কর্মকর্তা মনিরা হক বলেন, আবদুল আউয়াল মিন্টুর আগে দ্বৈত নাগরিকত্ব ছিল। তবে তিনি ২০২৫ সালের ৯ ডিসেম্বর তা পরিত্যাগের আবেদন করেছেন বলে হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। প্রমাণ হিসেবে মার্কিন দূতাবাসে নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদন জমা দেওয়ার তথ্য দিয়েছেন। সংবিধানের সংশ্লিষ্ট ধারায় বলা আছে, বিদেশি নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করলে তা আর গণ্য হয় না। সে অনুযায়ী তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।
শুধু নাগরিকত্ব বাতিলের আবেদনের ভিত্তিতে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা যায় কি না—এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোমবার রাতে রিটার্নিং কর্মকর্তা বলেন, আমাদের কাছে যে আইনি মতামত ছিল, তার পাশাপাশি তিনি হলফনামায় উল্লেখ করেছেন যে তিনি ইউএস অ্যাম্বাসিতে আবেদন করেছেন। তিনি তাঁর পক্ষে দুটি লিগ্যাল ফরম্যাট ওপিনিয়ন দিয়েছেন, যার একটি ফেনী জেলা পাবলিক প্রসিকিউটরের। এসব বিবেচনায় নিয়ে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এরপরও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য আমাদের ওপরের অথোরিটি আছেন।
তিনি আরও বলেন, আমি নির্বাচন কমিশন ও পিপির মতামত লিখিতভাবে যাচাই করেছি। পিপির মতামত পেয়েছি, তবে নির্বাচন কমিশনের মতামত পাইনি। আমরা কর্মকর্তারা আলোচনা করে যা বুঝেছি, সে অনুযায়ী কাজ করেছি।
মনোনয়ন বৈধ ঘোষণার পর প্রতিক্রিয়ায় আবদুল আউয়াল মিন্টু সাংবাদিকদের বলেন, যারা আমার কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন, তাঁদের প্রতি আমি কৃতজ্ঞ। আমার ব্যাংক ঋণ ও সম্পদের তথ্য তারা কষ্ট করে যাচাই করেছেন। ফেনীর মানুষের কল্যাণে কী করা দরকার, আমি জানি। সেই লক্ষ্যেই শেষ বয়সে নির্বাচনে এসেছি।
হলফনামা অনুযায়ী, ব্যবসায়ী মিন্টুর মোট সম্পদের পরিমাণ ৫০৭ কোটি ৮০ লাখ ৮ হাজার ১৭১ টাকা। গত অর্থবছরে দেশের ভেতরে তাঁর বার্ষিক আয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৫০ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯০ টাকা।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ আসনে সাতজন প্রার্থীর মনোনয়ন বৈধ ও চারজনের বাতিল হয়েছে। বৈধ প্রার্থীরা হলেন—বিএনপির আবদুল আউয়াল মিন্টু, জাতীয় পার্টির মো. আবু সুফিয়ান, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফখরুদ্দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. সাইফ উদ্দিন, ইসলামী ফ্রন্ট বাংলাদেশের মো. আবু নাছের, বাসদের আবদুল মালেক এবং বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের মো. খালেকুজ্জামান পাটোয়ারী।
অন্যদিকে বিভিন্ন কারণে ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. হাসান আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের মোহাম্মদ আলী, স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ মাহমুদ ও মাহবুবুল হক রিপনের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।



