বঙ্গোপসাগরের ভাঙনে বিলীন হচ্ছে সুন্দরবনের কটকা
শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:২১ এএম
বঙ্গোপসাগরের তীব্র ভাঙনে একে একে সাগরে হারিয়ে যাচ্ছে সুন্দরবনের অন্যতম পর্যটনকেন্দ্র কটকা। ইতোমধ্যে বনরক্ষীদের ব্যারাক, চলাচলের রাস্তা, পুকুর, রেস্টহাউসসহ একাধিক স্থাপনা সমুদ্রগর্ভে বিলীন হয়েছে। প্রতিদিনই প্রবল ঢেউয়ের আঘাতে নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকিতে পড়ছে। এতে কটকার অবকাঠামোর পাশাপাশি পুরো এলাকার পরিবেশ ও পর্যটন কার্যক্রম মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে।
ভাঙনের প্রভাব পড়েছে পার্শ্ববর্তী জামতলা সৈকতেও। একসময় বালুময় সৈকত হিসেবে পরিচিত জামতলায় এখন বালুর স্তর প্রায় নেই বললেই চলে। জোয়ারের পানিতে বালু ধুয়ে গিয়ে এলাকাটি কর্দমাক্ত হয়ে পড়েছে। কর্দমাক্ত জমিতে হাঁটতে গিয়ে চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন পর্যটকেরা।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের কটকা অভয়ারণ্য কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মতিউর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই কটকা বনাঞ্চল ভাঙনের কবলে রয়েছে। প্রতিনিয়ত বনভূমি ও গাছপালা সাগরে বিলীন হচ্ছে। গত দুই বছরে বনরক্ষীদের দুটি ব্যারাক, একটি রেস্টহাউস, একটি পুকুর, চলাচলের রাস্তা এবং বিপুল পরিমাণ গাছপালা সাগরে হারিয়ে গেছে। কয়েক দফা ব্যারাক স্থানান্তর করতে হয়েছে। বর্তমানে সাগর অত্যন্ত কাছাকাছি চলে এসেছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, আগামী বর্ষা মৌসুম নাগাদ বর্তমান ব্যারাক, অফিস ও রেস্টহাউসও সাগরে চলে যেতে পারে। ভাঙন ঠেকাতে জরুরি ভিত্তিতে কংক্রিট ব্লক ফেলা প্রয়োজন।
সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ বাগেরহাটের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. রেজাউল করীম চৌধুরী বলেন, গত কয়েক বছরে বঙ্গোপসাগরের ভাঙনের কারণে কটকাসহ সুন্দরবনের বিভিন্ন অংশ মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কটকায় ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি পাকা স্থাপনা ও পুকুর সাগরে বিলীন হয়েছে। ভাঙন প্রতিরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সহায়তা চাওয়া হয়েছে। বোর্ডের কর্মকর্তারা ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে প্রস্তাবনা জমা দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত কার্যকর প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া হলে কটকার পর্যটন সম্ভাবনা ও জীববৈচিত্র্য উভয়ই মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।



