এলপি গ্যাসের লাগামহীন মূল্যবৃদ্ধি, ভোক্তাদের দুর্ভোগ চরমে
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৫১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ঢাকার কেরানীগঞ্জে এলপি গ্যাসের বাজার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেছে। সরকারি ও কোম্পানি নির্ধারিত মূল্য অমান্য করে অসাধু ব্যবসায়ীরা ইচ্ছেমতো দাম বাড়িয়ে একপ্রকার নৈরাজ্য সৃষ্টি করেছে। কয়েক দিনের ব্যবধানে ১২ কেজির একটি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ১২০০ টাকা থেকে বেড়ে ২০০০-২১০০ টাকায় পৌঁছেছে।
রান্নার মতো প্রয়োজনীয় জ্বালানির এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
সরেজমিনে আটি বাজার, কলাতিয়া, রোহিতপুর, হাসনাবাদ, আগানগর, কালিন্দী, জিঞ্জিরা ও শুভাঢ্যা এলাকায় দেখা গেছে, একই কোম্পানির গ্যাস একেক দোকানে একেক দামে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও ১৯৫০ টাকা, আবার পাশের দোকানেই ২১০০ টাকা। অধিকাংশ দোকানে কোনো মূল্য তালিকা নেই, থাকলেও তা মানা হচ্ছে না। ক্রেতাদের বলা হচ্ছে— ‘নিতে হলে এই দামেই নিতে হবে’।
খুচরা বিক্রেতারা দায় চাপাচ্ছেন বড় ডিলার ও পরিবেশকদের ওপর। তাদের দাবি, বেশি দামে কিনতে হওয়ায় বাধ্য হয়ে দাম বাড়ানো হচ্ছে। অন্যদিকে ডিলাররা বলছেন, কোম্পানি থেকে পর্যাপ্ত সরবরাহ না পাওয়া এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়াই সমস্যার মূল কারণ।
স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, এটি কোনো স্বাভাবিক সংকট নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে তৈরি করা একটি কৃত্রিম সংকট। একই সময়ে দাম বৃদ্ধি, সাপ্লাই কমে যাওয়া এবং ‘গ্যাস নেই’ বলে আতঙ্ক ছড়ানো— সবকিছুই শক্তিশালী সিন্ডিকেটের কারসাজির ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত দামের বাইরে গ্যাস বিক্রি দণ্ডনীয় অপরাধ হলেও কেরানীগঞ্জে তার কার্যকর প্রয়োগ নেই।
কেরানীগঞ্জ এলপি গ্যাস ডিলার সমিতির সভাপতি নুর আলম আখি জানান, গ্যাস আমদানিতে সমস্যা থাকায় কোম্পানিগুলো চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ দিতে পারছে না। আগে যেখানে ৮ হাজার বোতল পাওয়া যেত, এখন দেওয়া হচ্ছে মাত্র ২৫০০-৩০০০ বোতল। ফলে খরচ বাড়তি পড়ছে। তবে খুচরা ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত লাভের আশায় বাজার অস্থির করে তুলেছে।
বসুন্ধরা এলপি গ্যাস কোম্পানির ডেপুটি ম্যানেজার (সেলস) রুকুনুজ্জামান বলেন, গত ১৩ দিন ধরে তারা কোনো গ্যাস সরবরাহ করতে পারছেন না। শীতকালে চাহিদা বেড়ে যাওয়া এবং আমদানিতে সংকটের কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুক জানান, সিন্ডিকেট করে দাম বাড়ানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিগগিরই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হবে।
সচেতন মহলের মতে, নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান ছাড়া এই লুটপাট বন্ধ হবে না। দ্রুত সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে সরকার নির্ধারিত দামে গ্যাস বিক্রি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। অন্যথায় রান্নার আগুনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের ক্ষোভও বিস্ফোরিত হতে পারে।



