Logo
Logo
×

সারাদেশ

যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আগুন, পুড়ল দুই শতাব্দীর পুরোনো দলিল

Icon

যশোর প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে আগুন, পুড়ল দুই শতাব্দীর পুরোনো দলিল

যশোর সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড সংরক্ষণাগারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে ব্রিটিশ আমলের দুইশ বছরের পুরোনো ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র, টিপবইসহ বহু গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র আগুনে পুড়ে গেছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৯টার দিকে রেজিস্ট্রি অফিসের পুরোনো ভবনে হঠাৎ করে আগুন লাগে। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে জ্বলতে থাকা আগুনে অমূল্য এসব নথি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে যায়।

সূত্র জানায়, ব্রিটিশ শাসনামলে ওই ভবনে সরকারি কার্যক্রম শুরু হয়। বহু আগেই ভবনটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হলেও নানা জটিলতার কারণে তা ভাঙা বা সংরক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া সম্ভব হয়নি। ভবনটির চারপাশে বড় বড় বটগাছ জন্মালেও ভেতরে দীর্ঘদিন ধরে প্রাচীন রেকর্ডপত্র সংরক্ষণ করা হচ্ছিল।

যশোর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার ফিরোজ আহমেদ জানান, অগ্নিকাণ্ডের সংবাদ পেয়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে তাদের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুরোনো ভবনের গেটে তালা দেওয়া ছিল এবং সেখানে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন না। তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ তদন্ত শেষে জানানো যাবে বলে তিনি জানান।

যশোরের শার্শা সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের মোহরার শামসুজ্জামান মিলন বলেন, ১৭৪১ সাল থেকে ১৯৪০ সাল পর্যন্ত যশোর ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকার গুরুত্বপূর্ণ দলিলপত্র এই ভবনে সংরক্ষিত ছিল। এর মধ্যে ভলিউম বুক, বালাম বই, সূচিপত্র ও টিপবই অন্তর্ভুক্ত ছিল। খুব বেশি প্রয়োজন না হলে ভবনের দরজা খোলা হতো না। আগুন লাগার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, প্রায় সব পুরোনো কাগজপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। আগুন নেভানোর সময় কিছু নথি পানিতে ভিজে নষ্ট হয়েছে বলেও তিনি জানান।

যশোর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সোহরাব হোসেন জানান, রাত ৯টার পর পুরোনো ভবনে আগুন লাগার খবর পান। ভবনটিতে সাধারণত তালা দেওয়া থাকত এবং হীরা নামে একজন নৈশপ্রহরী সেখানে দায়িত্বে থাকতেন। তবে আগুন লাগার সময় তাকে সেখানে পাওয়া যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এদিকে স্থানীয় কয়েকজন দোকানি জানান, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনাটি রহস্যজনক। তাদের দাবি, ভবনের ভেতরে কোনো বৈদ্যুতিক সংযোগ নেই। তাই বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগার সম্ভাবনা নেই বলেই তারা মনে করেন। পরিকল্পিতভাবে আগুন লাগানো হয়ে থাকতে পারে বলে তাদের ধারণা। তারা বলছেন, পুলিশ প্রশাসনের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদঘাটন হওয়া প্রয়োজন।

এই অগ্নিকাণ্ডে যশোরের ইতিহাস ও ভূমি রেকর্ড সংরক্ষণের ক্ষেত্রে এক অপূরণীয় ক্ষতি হলো বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন