ঘন কুয়াশা আর তীব্র শীতে কাবু কুড়িগ্রাম, বাড়ছে রোগী ও দুর্ভোগ
কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০২ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম
ঘন কুয়াশায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রামের চারপাশের পরিবেশ। রাত থেকে দুপুর পর্যন্ত বইছে শীতল বাতাস, বাড়ছে কাঁপুনি। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে চরাঞ্চলের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দুর্দশা বেড়েছে বহুগুণ।
শুক্রবার (২ জানুয়ারি) ভোর ৬টায় কুড়িগ্রামে চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১০ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুড়িগ্রাম রাজারহাট কৃষি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুবল চন্দ্র সরকার।
তীব্র শীতের প্রভাবে জ্বর, সর্দি ও কাশিতে আক্রান্ত হচ্ছেন নানা বয়সী মানুষ। প্রতিদিন শতশত রোগী কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালসহ জেলার ৯টি উপজেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শীতজনিত কারণে ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যাও বেড়েছে। কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের ২৫০ শয্যার বিপরীতে দ্বিগুণের বেশি রোগী ভর্তি থাকায় বেড সংকটে অনেক রোগীকে মেঝেতে বিছানা পেতে থাকতে হচ্ছে।
কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. আল আমিন জানান, তীব্র শীতের কারণে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন এবং নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
শীতের প্রভাব পড়েছে কর্মজীবী মানুষের জীবনেও। কুড়িগ্রাম পৌরসভার চামড়ার গোলা এলাকার দিনমজুর জহির আহমেদ বলেন, “শীতের তীব্রতায় আমাদের মতো খেটে খাওয়া মানুষের জীবন প্রায় স্থবির। চার দিন ধরে কোনো কাজ নেই। ধারদেনা করে সংসার চালাতে হচ্ছে।”
ধরলা এলাকার ভ্যানচালক আমিনুল ইসলাম জানান, আগে দিনে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা আয় হলেও এখন শীতের কারণে তা কমে ২০০ টাকায় নেমে এসেছে।
ঘন কুয়াশার কারণে যোগাযোগ ব্যবস্থাও ব্যাহত হচ্ছে। রৌমারী থেকে কুড়িগ্রাম জজ কোর্টে হাজিরা দিতে আসা মেহেদী, মাসুদ ও জলিল মিয়া জানান, কুয়াশার কারণে ব্রহ্মপুত্র নদ পার হতে এক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিতে এখন আড়াই থেকে তিন ঘণ্টা সময় লাগছে। এতে আইনি ও যাতায়াতজনিত ভোগান্তি বেড়েছে।
কুড়িগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. স্বপ্নন কুমার বিশ্বাস বলেন, জেলায় শীতজনিত রোগীর সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে, তবে এখনো তা আশঙ্কাজনক পর্যায়ে পৌঁছায়নি। অধিকাংশ রোগী বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ জানান, জেলার ৯টি উপজেলায় মোট ২২ হাজার শীতবস্ত্র বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি দুর্যোগ মোকাবিলায় নগদ ৫৪ লাখ টাকা মজুদ আছে।
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতেও কুয়াশা ও শীতের প্রভাব অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে জনদুর্ভোগ আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।



