Logo
Logo
×

সারাদেশ

কিশোরগঞ্জে ঝকঝকে নতুন বই পেয়ে উচ্ছসিত শিক্ষার্থীরা

Icon

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :

প্রকাশ: ০১ জানুয়ারি ২০২৬, ০৪:১৩ পিএম

কিশোরগঞ্জে ঝকঝকে নতুন বই পেয়ে উচ্ছসিত শিক্ষার্থীরা

ছবি : সংগৃহীত

নতুন বছরের প্রথম দিনে কিশোরগঞ্জে সাধারণ ও মাদ্রাসা পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেওয়া হয়েছে। শিক্ষার্থীরা নতুন পাঠ্যবই পেয়ে উচ্ছ্বসিত। তবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে রাষ্ট্রীয় শোক দিবস পালিত হওয়ায় এবার কোনো বিশেষ আনুষ্ঠানিকতা বা ‘বই উৎসব’ আয়োজন করা হয়নি। উৎসব ছাড়াই নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে নতুন বই সংগ্রহ করেছে শিক্ষার্থীরা।

বৃহস্পতিবার (০১ জানুয়ারি) সকাল থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক উপস্থিতি দেখা যায়। বছরের শুরুতেই নতুন বইয়ের গন্ধ নিতে পেরে খুদে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আনন্দ ও উচ্ছ্বাস লক্ষ্য করা গেছে। অনেক অভিভাবককেও সন্তানদের সাথে নিয়ে হাসিমুখে স্কুল থেকে ফিরতে দেখা যায়।

শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, নতুন বছরের প্রথম দিনেই পাঠ্যবই হাতে পাওয়া শিক্ষার্থীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং শিক্ষাবর্ষ শুরুর আগ্রহ তৈরি করে। তাই অবশিষ্ট বই দ্রুত সরবরাহ নিশ্চিত করে সব শিক্ষার্থীর হাতে সময়মতো পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তাঁরা।

নতুন বই হাতে পেয়ে সদর উপজেলার স্বল্প যশোদল দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণীর শিক্ষার্থী লাদেন মিয়া উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলে,“নতুন বছরের প্রথম দিনেই বই পেয়ে খুব ভালো লাগছে। নতুন বই মানেই নতুন প্রস্তুতি। বইগুলো হাতে পেয়ে এখন থেকেই পড়াশোনা শুরু করতে পারব।”, নতুন বই নিয়ে অনেক আনন্দ লাগছে। বাসায় গিয়েই সব বই পড়ে ফেলবো। 

একই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রুজিনা আক্তার নতুন বই হাতে পেয়ে নিজের অনুভূতি জানিয়ে বলেন,“নতুন বইয়ের গন্ধ আর নতুন পাতা উল্টানোর আনন্দ আলাদা। উৎসব না হলেও বই পেয়ে খুব খুশি হয়েছি। আগামীতে একটি ভালো ফলাফল পাওয়ার আশা করছি।

অবিভাবক সালমা আক্তার বলেন, বছরের শুরুতেই পাঠ্যবই হাতে পাওয়া শিক্ষার্থীদের মানসিক প্রস্তুতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এতে পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং নিয়মিত পাঠদানে গতি আসে।

স্বল্প যশোদল দক্ষিণ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওসমান গণি জানান, শিক্ষাবর্ষের শুরুতেই বই না পেলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে। পাঠ্যবই হাতে থাকলে শিক্ষার্থীরা ক্লাসের পাঠ অনুসরণ করতে পারে এবং বাড়িতে পড়াশোনার পরিকল্পনা করতে সুবিধা হয়। ফলে সময়মতো পাঠ্যবই বিতরণ শিক্ষার মানোন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত। এ বছর বই বিতরণে কোনো উৎসব করা হয়নি। রোল ধরে ডেকে ডেকে শিক্ষার্থীদের হাতে বই তুলে দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বইয়ে কোনো কাটা-ছেঁড়া বা ত্রুটি আছে কি না, তা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের দেখে নিতে বলা হচ্ছে। এতে কিছুটা সময় লেগেছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো.  শফিকুল ইসলাম বলেন, এই বছর জেলার প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে ১৭ লাখ ৫৬ হাজার ৫শত ৪৫টি বইয়ের চাহিদা ছিল। ইতোমধ্যে সবগুলোই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছেছে।

জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা শামসুন্নাহার মাকসুদা জানান, কিশোরগঞ্জ জেলায় স্কুল, মাদ্রাসা, কারিগরি ও ইংরেজি ভার্সন মিলিয়ে মোট পাঠ্যবইয়ের চাহিদা ছিল ৩৯ লাখ ৮৭ হাজার ৪শত ২৩টি। এর মধ্যে কয়েকটি বইয়ের ঘাটতি থাকলেও আশা করছি খুব শিগগিরই চাহিদামতো সব বই শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

উল্লেখ্য, রাষ্ট্রীয় শোকের কারণে এবার কোনো উৎসব আয়োজন না থাকলেও শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ বিদ্যালয়ে গিয়ে বই সংগ্রহ করেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে অন্তর্বর্তী সরকার বুধবার থেকে শুক্রবার (২ জানুয়ারি) পর্যন্ত তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে। সে কারণে বই বিতরণ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই সম্পন্ন করা হয়েছে।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন