কলেজ শিক্ষকের হত্যার ১১বছরেও শেষ হয়নি বিচারকার্য
কক্সবাজার প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৫, ০৯:০১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
কক্সবাজারের টেকনাফ কলেজের বাংলা বিভাগের অধ্যাপক ও সাহিত্যিক মো. শামসুল আলম হত্যার ১১ বছর ৩১ অক্টোবর। ২০১৪ সালের এই দিনে নিজ গ্রামে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল এই শিক্ষককে। হত্যার ১১ বছরেও শেষ হয়নি এর বিচারকার্য। বরং জমিনে মুক্তি থাকা অভিযুক্তরা প্রকাশ্যে ঘুরছে। এমনকি মামলার বাদি নিহতের স্ত্রী স্কুল শিক্ষক দিলসাদ বেগমকে নানাভাবে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।
নিহত শামসুল আলম টেকনাফ উপজেলার হোয়াইক্যং ইউনিয়নের পশ্চিম মহেশখালীয়াপাড়ার মৃত ফজল করিমের ছেলে। তিনি টেকনাফ কলেজের প্রতিষ্ঠাতাকালিন থেকে বাংলা বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। তার লেখা একটি উপন্যাস রয়েছে।
মামলার নথিপত্র ও মামলার বাদি দিলসাদ বেগমের দেয়া তথ্য বলছে, ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর শুক্রবার বিকালে প্রকাশ্যে শামসুল আলমের ওপর হামলা চালিয়ে পিটিয়ে আহত করে। পরে তাঁকে কক্সবাজার হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর অবস্থা অবনতি হওয়ায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে। কিন্তু পথেই গাড়িতে থাকা অবস্থায় তিনি মারা যান। এ ঘটনায় ২০১৪ সালের ২ নভেম্বর তিনি হয়ে ৩৫ জনের নাম উল্লেখ করে টেকনাফ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে পরের বছর পুলিশ ৩২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ পত্র দাখিল করেন। যেখানে ৩ জনকে মামলা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়।
মামলাটি বর্তমানে অতিরিক্ত সিনিয়র জজ আদালত ২ এ বিচারাধীন রয়েছে। ওই আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আবদুর রশিদ জানান, অধ্যাপক শামসুল আলম হত্যা মামলার প্রায় সকল সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হয়েছে। এর বাইরে আরও একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের জন্য আদালতের কাছে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করলে তার বিরুদ্ধে হাইকোর্টে আপীল করছে আসামি পক্ষ। ফলে সাক্ষ্য নেয়া যাচ্ছে না। আগামি নির্ধারিত দিন হাইকোর্ট নিদের্শনা না আসলে ঐ সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, এ মামলার এজহারে অভিযুক্ত ৬ নম্বর মৃত তমিজুর রহমানের পুত্র শাহাব উদ্দিন, শাহাব উদ্দিনের ২ ছেলে আলা উদ্দিন ও রিয়াজ উদ্দিনকে অব্যাহতি প্রদান করা হলে ৩২ জনকে অভিযুক্ত করা হয়। অভিযুক্ত আসামীর কেউ বর্তমানে কারাগারে নেই। আমি দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে মামলাটি দ্রুত শেষ করার চেষ্টায় আছি। আশা করছি একজন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণের মধ্য দিয়ে এই মামলা নিষ্পত্তি করা সম্ভব হবে।
মামলার বাদি দিলসাদ জানান, জামিনে মুক্তি পাওয়া মো হাসান ইতিমধ্যে মারা গেছেন। ঘটনার ১১ বছরে বিচার বিলম্বিত হওয়ায় সাক্ষি সহ তিনি নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। নানাভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত আসামিরা এক সময় আওয়ামীলীগের পরিচয়ে দাপটট দেখাতেন। এখন তারা অন্য রাজনৈতিক পরিচয়ে দাপট দেখাচ্ছে।
টেকনাফ কলেজের অধ্যাপক সন্তোষ কুমার শীল জানান, একজন শিক্ষককে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ১১ বছরেও এ মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া দুঃখজনক। একজন সহকর্মী শিক্ষক হিসেবে রাষ্ট্রকে বিচার নিশ্চিত করার আবেদন জানাচ্ছি।
টেকনাফ কলেজের বাংলাবিভাগের অধ্যাপক সিরাজুল হক সিরাজ জানান, শিক্ষাবিদ শামসুল আলমের বিচার এখন টেকনাফের সকল শ্রেণী পেশার মানুষের দাবি। সবাই অপেক্ষা করছেন এর ন্যায় বিচারের। ১১ বছর ধরে এই বিচার শেষ না হওয়া রাষ্ট্রের ব্যর্থ। এটা দ্রুত সমাধান চাই সকলেই।



