শাপলা প্রতীকের জন্য ইসি পুনর্গঠনের আন্দোলনে যাবে এনসিপি : সারজিস আলম
কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৫:১৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, নির্বাচন কমিশন অনেক জায়গা থেকে স্বেচ্ছাচারিতা করছে এবং পক্ষপাত দুষ্ট আচরণ করছে। আমরাও অভ্যুত্থান পরবর্তী নির্বাচন কমিশনের কাছে এই ধরনের স্বেচ্ছাচার এবং পক্ষপাত মূলক আচরণ প্রত্যাশা করিনা। যদি এনসিপিকে শাপলা প্রতীক পেতে রাজপথে কর্মসূচিতে যেতে হয়, তাহলে এনসিপি একই সাথে নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনেরও আন্দোলনে যাবে। এই নির্বাচন কমিশন দ্বারা নির্বাচন হলে এই নির্বাচন কমিশনে নিরপেক্ষ অবস্থান তাদের কাজে এবং কথার মাধ্যমে দেখাতে হবে যেটা এখন পর্যন্ত তারা করছে না।
রবিবার (২৬ অক্টোবর) সকালে কিশোরগঞ্জে শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা এনসিপির সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ গ্রহণ শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন।
এসময় আগামীর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ প্রশ্নে এবং ভারতীয় আধিপত্যের প্রশ্নে বিএনপি এবং জামায়াত একভাবে নেতৃত্ব দিতে পারবেনা, সেই জায়গায় এনসিপির প্রতিনিধিত্ব আবশ্যক- উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, আগামীর বাংলাদেশে জুলাই সনদের বাস্তবায়ন, প্রয়োজনীয় মৌলিক সংস্থার এবং বিচারিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে এককভাবে বিএনপি ও জামায়াত নেতৃত্ব দিতে পারবে না। সেই জায়গায় তরুণ প্রজন্ম ও এনসিপির অংশগ্রহনের নিশ্চয়তা আবশ্যক।
সারজিস আলম আরও বলেন, যেদিন জুলাই সনদের বাস্তবায়ন নিশ্চত করা হবে যেদিন এই আদেশ জারি করা হবে প্রধান উপদেষ্টার পক্ষ থেকে এবং গণভোটে যদি জুলাই গণ সনদের পক্ষে রায় আসে তখন কোন নোট অফ ডিসেন্টকে বিবেচনা করা হবে না। এই নিশ্চয়তা যেদিন আসবে সেদিন এনসিপি নির্দ্বিধায় বাংলাদেশের মানুষের পক্ষ থেকে জুলাই সনদের স্বাক্ষর করবে। তার পূর্বে কোন নিশ্চয়তা ছাড়া শুধুমাত্র একটি কাগজে লেখা সনদে স্বাক্ষর করে জনগণের সাথে প্রতারণা করতে পারবে না।
সারজিস আলম বলেন, শুধু কয়েকটি আসনকে সামনে রেখে সংসদে যাওয়ার জন্য, জোট করার জন্য কোন চিন্তা করছে না এনসিপি। আমরা মনে করি কোন রাজনৈতিক দল যদি তাদের জায়গা থেকে জুলাই সনদের প্রত্যেকটি সংস্কার বাস্তবায়নের প্রতি কমিটেড থাকে, বিচারিক প্রক্রিয়াকে ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেয়ার জন্য কমিটেড থাকে, ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে কমিটেড থাকে আওয়ামী লীগ জাতীয় পার্টিসহ ফেসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য কমিটেড থাকে- তাহলেই আগামী নির্বাচনে কোন দলের সাথে ঐক্য হতে পারে।
এর আগে সকালে এনসিপির জেলা সংগঠক ইকরাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানের শুরুতেই কোরআন তেলাওয়াত করা হয়। এরপর জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জুলাই আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট দাঁড়িয়ে নিরবতা পালন করা হয়। এরপরই শুরু হয় সাংগঠনিক আলোচনা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে কমিটির নেতাকর্মীরা সমন্বয় সভায় অংশ নিয়েছেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটি যুগ্ম সদস্য সচিব আহনাফ সাঈদ খানের সভাপতিত্বে সমন্বয় সভায় অন্যান্যের মধ্যে উত্তরাঞ্চলের মূখ্য সংগঠক ও ঢাকা বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল্লাহ হায়দার, কেন্দ্রীয় কমিটির সংগঠক খাইরুল কবির, সংগঠক সাঈদ উজ্জ্বল, কেন্দ্রীয় কমিটি সদস্য দিদার শাহ্সহ দলের স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।



