Logo
Logo
×

সারাদেশ

প্রতিবন্ধীর বসতঘর ভেঙে মাদরাসার রাস্তার নামে জমি দখলের অভিযোগ

Icon

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি :

প্রকাশ: ০৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৩:১৫ পিএম

প্রতিবন্ধীর বসতঘর ভেঙে মাদরাসার রাস্তার নামে জমি দখলের অভিযোগ

ছবি : যুগেরচিন্তা

কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে একটি মাদরাসায় যাওয়া-আসার জন্য প্রতিবন্ধীর বসতঘর ভেঙে রাস্তা করে দেওয়ার নামে জমি দখলের পায়তারা করার অভিযোগ উঠেছে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল ইসলাম রুপ্তনের বিরুদ্ধে।

স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামে ২০১৯ সালে  রাফিউল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসাটি প্রতিষ্ঠা করেন মৃত রবিউল্লাহ'র ছেলে রফিকুল ইসলাম রুপ্তন। মাদরাসায় যাওয়া-আসার জন্য নির্দিষ্ট কোনো রাস্তা না থাকায় আশপাশের মানুষের বাড়িঘরের আঙিনা পার হয়ে চলাচল করা লাগতো শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্টদের। 

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে মাদরাসা কর্তৃপক্ষের দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। ইতিপূর্বে দুই পক্ষের মধ্যে বেশ কয়েকবার সালিশ-বৈঠক হলেও কোনো সমাধানে পৌঁছানো যায়নি। এদিকে সমস্যা সমাধানে স্থানীয় প্রশাসন মাদরাসা শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য একটি রাস্তার ব্যবস্থা করে দেয়। সরেজমিনে রাফিউল উলুম ইসলামিয়া মাদরাসায় গিয়ে আরও দেখা যায়, টিনসেডের দু'টি কক্ষের মাঝে একটিতে দাপ্তরিক কার্যক্রম ও অন্যটিতে শিক্ষার্থীদের পাঠদান চলছে। 

এসময় শিক্ষার্থীদের সাথে কথা হলে তারা জানায়, মাদরাসায় আসা-যাওয়া করতে আমাদের কোনো সমস্যা হয় না। আমরা অনেক দিক দিয়ে চলাচল করে মাদরাসায় যাওয়া-আসা করতে পারি। হুজুরের কথায় আমরা ওই বাড়ির উপর দিয়ে চলাচল করি কিন্তু এদিক দিয়ে ছাড়াও আরও রাস্তা আছে চলাচলের। 

মাদরাসা পড়ুয়া শিক্ষার্থীর অভিভাবক রমজান আলী বলেন, আমার সন্তানসহ তার সহপাঠীদের চলাচল করতে কোনো সমস্যা হয় না। আমার সন্তানকে রাস্তার বিষয়ে জানতে চাইলে আমাকে জানায় হুজুর হাফেজ আমির হামজা শিখিয়ে দেয় যে রাস্তার সমস্যা আছে এটা বলতে নাহলে তাদের মারবে।

বসতঘরের বাসিন্দা নাসিমা আক্তার কান্না স্বরে বলেন, আমার স্বামী একজন প্রতিবন্ধী। তিনটি সন্তান নিয়ে অভাবের সংসার। আমার শশুর সরকারের কাছ থেকে এই জায়গা পেয়েছিল যা বর্তমানে আমরা ঘর বানিয়ে থাকছি। এতদিন এই জায়গা খালি থাকায় মানুষজন চলাচল করতো কিন্তু এটা খাস জায়গা সরকারের কাছ থেকে লিজ নিয়ে আমার শশুর পরিবার নিয়ে থাকা শুরু করেন।

নাসিমার দেবর আবদুস সাত্তার বলেন, আমার পরিবার ২০০৯ সালে খাস জায়গা লিজ নিয়ে এখানে বসবাস করলেও কোনো সমস্যা হয়নি। আমার ভাই ঘর নির্মাণ করে থাকা শুরু করলে রফিকুল ইসলাম রুপ্তন মাদরাসায় যাওয়া-আসার রাস্তা দাবি করেন। চলাচলের আরও রাস্তা থাকা সত্ত্বেও আমাদের বসতঘর ভেঙে মাদরাসার রাস্তার নাম দিয়ে ভিটেমাটি উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র করছে রফিকুল ইসলাম রুপ্তন।

সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সাহায্য চেয়ে তিনি আরও বলেন,আমাদের এখান থেকে সরাতে পারলে সে তার জায়গার ভালো মূল্য পাবে এই আশায় খাস জায়গাকে রাস্তা দাবি করছে। 

স্থানীয় বাসিন্দা হারুন মিয়া বলেন, প্রতিবন্ধী আবদুল কাদেরের বাবা আবদুস সোবহান মিয়া সরকারের কাছ থেকে খাস জায়গা লিজ নিয়ে তার পরিবারসহ থাকতে শুরু করে। কয়েক বছর আগে রফিকুল ইসলাম রুপ্তন জায়গা ক্রয় করে মাদরাসা ও গোরস্থান তৈরি করে। এতদিন যাওয়া-আসার রাস্তা নিয়ে কোনো সমস্যা না হলেও কয়েক মাস আগে একটি ঘর তৈরি হলে চলাচলে সমস্যা দেখা দেয় পরবর্তীতে এসিল্যান্ড এসে রাস্তার ব্যবস্থা করে দেয়।

ইউপি সদস্য আজিজুল ইসলাম বলেন, মৃত আবদুর রশিদের ছেলে আবদুল কুদ্দুসের মালিকানা জায়গা হল মূল সড়কের ১০০ ফুট দক্ষিণ পাশে। কিন্তু সে আবদুস সোবহানের দখলীয় জায়গাকে তার জায়গা বলে দাবী করছে। এই জায়গাটি খাস জমি এখানে লিজ নিয়ে বসতঘর তৈরি করা হয়েছে। মাদরাসা ও গোরস্থানে যাওয়া-আসার জন্য আরও রাস্তা রয়েছে। 

এ বিষয়ে মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা রফিকুল ইসলাম রুপ্তন বলেন, স্থানীয়দের পরামর্শে আমি এখানে মাদরাসা ও গোরস্থান তৈরি করি। বর্তমানে রাস্তা বন্ধ করে দিয়ে আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করেছে যেন আমি এসব ছেড়ে চলে যাই।

তাড়াইল উপজেলার দিগদাইড় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফ উদ্দিন ভুঁইয়া বলেন, বসতঘরের বাসিন্দা নাসিমা আক্তার সরকারী জায়গা লিজ নিয়ে দখল করে বসবাস করতেছে। আরেক প্রভাবশালী লোক রফিকুল ইসলাম রুপ্তন মাদরাসা ও কবরস্থানে যাতায়াতের জন্য এই জায়গা দিয়ে রাস্তা নিতে চাচ্ছে। আবদুস সাত্তার সহ এলাবাসী তাদের মালিকানা জায়গা দিয়ে রাস্তা দিয়েছে। এখান দিয়ে তারাও চলুক, আমরাও চলি, কোনো আপত্তি নাই।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আনিছুজ্জামান সুমন বলেন, ভূমি বন্দোবস্ত দলিল মূলে করাতি মৌজার ২৮৪ নং দাগে আবদুস সোবহান গং ১৪ শতাংশ জায়গার মালিক ও দখলকার হয়ে উক্ত দাগের উত্তর-পূর্ব কোণে সম্প্রতি একটি বসতঘর তৈরি করলে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়। আমি সরেজমিনে গিয়ে তাদের বলে আসছি ঘর ভেঙে মাদরাসায় যাওয়া-আসার জন্য রাস্তা দিতে। অন্যাথায় তাদের লিজ বাতিল করে দেব।

Swapno

Abu Al Moursalin Babla

Editor & Publisher

Major(Rtd)Humayan Kabir Ripon

Managing Editor

Email: [email protected]

অনুসরণ করুন