মহাস্থানগড়
আড়াই হাজার বছরের পুরোনো প্রত্ননগরী, পর্যটকদের চাহিদায় পিছিয়ে সুযোগ-সুবিধা
বগুড়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০১:২৪ পিএম
দেশের সবচেয়ে প্রাচীন প্রত্ননগরী মহাস্থানগড় বা পুন্ড্রনগরী করতোয়া নদীর পশ্চিম তীরে ২ কোটি ৪৬ হাজার বর্গমিটার আয়তনে গড়ে উঠেছিল প্রায় আড়াই হাজার বছর আগে। ১৯৯৩ সালে বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ খননে পাওয়া প্রাচীন মাটির চুলা, পাঞ্চমার্ক কয়েন ও পোড়ামাটির ফলকসহ অসংখ্য নিদর্শন প্রমাণ করে এ নগরীতে মানুষের বসতি শুরু হয়েছিল যিশু খ্রিষ্টের জন্মেরও বহু আগে।
মৌর্যপূর্ব যুগ থেকে শুরু করে মৌর্য, গুপ্ত, পাল, সেনসহ বিভিন্ন আমলের হাজারও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন মহাস্থানগড়ে পাওয়া গেছে। দুর্গনগরীর আশপাশে ছড়িয়ে আছে আরও ২৫টি প্রত্নস্থল, যা গবেষক ও দর্শনার্থীদের কাছে সমান গুরুত্বপূর্ণ।
১৯০৭ সাল থেকেই এখানে পরিকল্পিত খনন শুরু হয়। এরপর ভারতীয় প্রত্নতাত্ত্বিক কে. এন. দীক্ষিত, ড. নাজিমুদ্দীন আহম্মেদ, বাংলাদেশ-ফ্রান্স যৌথ দলসহ নানা পর্যায়ে খননে বেরিয়ে এসেছে প্রাচীন মন্দির, বিহার, প্রাচীর, গেট এবং দুর্লভ সব নিদর্শন। প্রত্নতত্ত্ববিদদের মতে, মহাস্থানগড় ও আশপাশের ৭৬ বর্গকিলোমিটার এলাকায় অন্তত ১১টি প্রাচীন বসতির প্রমাণ মেলে।
বর্তমানে মহাস্থান জাদুঘরে সংরক্ষিত আছে বিভিন্ন যুগের ৮৩২টি প্রত্নবস্তু। শুধু গত বছরেই এখানে ঘুরতে এসেছেন ৪ লাখ ১০ হাজার দর্শনার্থী, যার মধ্যে ছিলেন ২ হাজারের বেশি বিদেশি।
তবে পর্যটকরা অভিযোগ করছেন, মহাস্থানগড়ে পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নেই। বৃষ্টি হলে আশ্রয়ের ব্যবস্থা নেই, বসার জায়গা অপ্রতুল, নেই মানসম্মত রেস্টুরেন্ট ও থাকার নিরাপদ স্থান। মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা জানান, দর্শনার্থীর চাপ বাড়লেও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এখনো গড়ে তোলা সম্ভব হয়নি। তবে নতুন করে ওয়াশরুম, ক্যাফেটেরিয়া ও বেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, মহাস্থানগড় শুধু বাংলাদেশের নয়, গোটা দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। সংরক্ষণ ও পর্যটন সুবিধা বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে এটি আন্তর্জাতিকমানের প্রত্নতাত্ত্বিক গন্তব্যে পরিণত হতে পারে।



