গৌরব হারিয়ে দখল-জঙ্গলে পরিণত কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মোহিনী মিল
কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১১:২৯ এএম
কুষ্টিয়ার পৌর এলাকার মোহিনী মিল।
কুষ্টিয়ার ঐতিহ্যবাহী মোহিনী মিল, যেটি একসময় এশিয়া জুড়ে দেশি কাপড় ও সুতা রপ্তানির জন্য খ্যাতি কুড়িয়েছিল, আজ দখল ও অব্যবস্থাপনার কারণে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।
১৯০৮ সালে ভারতীয় সিভিল সার্ভিসের সদস্য মোহিনী মোহন চক্রবর্ত্তী মাত্র আটটি তাঁত দিয়ে এ মিলের যাত্রা শুরু করেন। ইংল্যান্ড থেকে আমদানি করা হ্যান্ডলুম মেশিন ও প্রায় ২০০ তাঁতের মাধ্যমে দ্রুত উৎপাদন বাড়তে থাকে। ১৯২০ সালের দিকে প্রায় তিন হাজার শ্রমিক এখানে কাজ করতেন। উৎপাদিত সুতা ভারত, নেপাল, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও মায়ানমার পর্যন্ত রপ্তানি হতো।
১৯৮২ সালে মিলটি বন্ধ হয়ে গেলে শুরু হয় অবৈধ দখল ও সম্পদ পাচার। স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা, তাদের স্বজন, সাবেক পুলিশ সদস্য ও কাউন্সিলরদের বিরুদ্ধে জমি ও স্থাপনা দখলের অভিযোগ রয়েছে। বর্তমানে মিলের প্রায় অর্ধেকের বেশি জায়গা তাদের নিয়ন্ত্রণে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি তাইজাল আলী খান দখলে নিয়েছেন জিএম বাংলো। তার ছেলে ওয়াহিদুজ্জামান রনি দখলে রেখেছেন ১ নম্বর গেটের সামনের জায়গা। তার আত্মীয়স্বজনরা কোয়ার্টার, হাসপাতাল ও মিলের মাঠ দখল করেছেন। মিলের সিনেমা হলের জায়গা দখলে নিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি হাজি রবিউল ইসলামের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। সাবেক পুলিশ ও কাউন্সিলরসহ আরও অনেকে ছোট ছোট প্লট বানিয়ে বিক্রি করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
১৯৮১ সালে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় কারখানাটি বিক্রির জন্য লিকুইডেশন সেল গঠন করে। ৪২ বছরেও এটি বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। এখনো ওই সেলে ১৫ জনের বেশি কর্মচারী বেতন ভাতা পাচ্ছেন, কিন্তু উৎপাদন শূন্য।
মিলের দেয়াল ও ছাদ ভেঙে পড়ছে, যন্ত্রাংশ মরিচা ধরে নষ্ট হচ্ছে, চারপাশে গজিয়েছে বটগাছ ও লতাপাতা। ৯৯ বিঘা জমির বাজারমূল্য এখন প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা হলেও কালের আবর্তে মিলটি পরিণত হয়েছে জনমানবশূন্য জঙ্গলে।
স্থানীয়রা বলছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর লোভ ও সরকারের উদাসীনতার কারণে মোহিনী মিল আর আলোর মুখ দেখেনি। অথচ সঠিক উদ্যোগ নিলে এটি লাভজনক শিল্পে রূপ নিয়ে হাজারো বেকারের কর্মসংস্থান হতে পারত।



