আধিপত্য বিস্তারে নিয়ে দুই গ্রুপের সংঘর্ষ, গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত ১
নরসিংদী প্রতিনিধি :
প্রকাশ: ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০২:৪৯ পিএম
নরসিংদীর রায়পুরায় সাবেক এক ইউপি মেম্বারের বাড়িতে হামলা চালিয়ে দুলাল মিয়া (৪৫) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় জাকির মিয়া ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নাহিম মিয়া (১৪) নামে এক শিক্ষার্থী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন।
সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) রাত ১১টার দিকে উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চল চরমধুয়া ইউনিয়নের সমীবাদ গ্রামে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
নিহত দুলাল মিয়া সমীবাদ এলাকার আব্দুল মালেকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কৃষক ছিলেন।
অপরদিকে আহত নাহিম মিয়া একই এলাকার বেলাল সরকারের ছেলে এবং স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। বর্তমানে গুলিবিদ্ধ নাহিম ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার সমীবাদ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সাবেক ইউপি মেম্বার খোকা আলম ও জাকির মিয়ার মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এরই জেরে সোমবার (৮ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর দেশীয় অস্ত্র ও আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে জাকির মিয়া ও তার অনুসারীরা খোকা আলমের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এ সময় জাকিরের পক্ষ নিয়ে হামলায় যোগ দেন আবির মেম্বার। তাদের ছোড়া গুলিতে গুরুতর আহত হন খোকা আলমের প্রতিবেশী দুলাল মিয়া (৪৫) ও শিক্ষার্থী নাহিম মিয়া (১৪)। এসময় দুলালের শরীরে পরপর আটটি গুলি লেগেছে বলে এলাকাবাসী জানায়। গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত ডাক্তার দুলালকে মৃত ঘোষণা করেন। তার মরদেহ বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রয়েছে। অন্যদিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন আছে নাহিম।
হামলার সময় জাকির মিয়ার লোকজন খোকা আলমের পক্ষের অন্তত ৮ থেকে ১০টি বাড়িঘর ভাঙচুর করে। প্রাণ বাঁচাতে খোকা আলমের অনুসারীরা বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
চরমধুয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আহসান শিকদার জানান, রাতে কোনো কারণ ছাড়াই সাবেক ইউপি সদস্য খোকা আলমের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায় স্থানীয় জাকির মিয়া ও তার অনুসারীরা। এ সময় জাকিরের পক্ষ নিয়ে হামলায় যোগ দেন আবির মেম্বার। তাদের ছোড়া গুলিতে খোকা আলম পক্ষের দুলালসহ দুজন আহত হন। পরে দুলালকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
রায়পুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আদিল মাহমুদকে বার বার ফোন করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) সুজন চন্দ্র সরকার বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছেন। তার মধ্যে দুলাল মিয়া নামে একজন মারা গেছেন বলে শুনেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় কাউকে আটক করা যায়নি।



