ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ৩০ কিলোমিটার যানজটে ভোগান্তি
নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৫, ০১:৪৬ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
দেশের অন্যতম ব্যস্ততম ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে গত রাত থেকে ভয়াবহ যানজটের সৃষ্টি হয়। রাতভর শত শত ট্রাক, বাস ও ব্যক্তিগত গাড়ি আটকে থাকায় যাত্রী ও চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) সকালে যানজট আরও তীব্র আকার নিলেও বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ধীরে ধীরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
পুলিশ জানায়, সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে কুমিল্লার দাউদকান্দি এলাকায় একটি ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে দুর্ঘটনায় পড়ে। ট্রাকটি রাস্তার মাঝেই আটকে থাকায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। কিছুক্ষণ পর মেঘনা সেতুর কাছে আরেকটি ট্রাক দুর্ঘটনায় পড়লে যানজট আরও মারাত্মক রূপ নেয়।
একই রাতে দুই দুর্ঘটনার কারণে সাইনবোর্ড থেকে দাউদকান্দি পর্যন্ত প্রায় ৩০ কিলোমিটার এলাকায় যানবাহন চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়। এতে রাতভর আটকে থাকে শত শত যানবাহন। অনেক চালক গাড়ির ভেতরেই রাত কাটান।
শিমরাইল হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ জুলহাস উদ্দিন জানান, দুর্ঘটনাগ্রস্ত ট্রাকগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। মহাসড়কে একাধিক টিম কাজ করছে। যান চলাচল ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হচ্ছে, তবে প্রচুর গাড়ি জমে থাকায় পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে দুপুর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।
মঙ্গলবার সকালে যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা আটকে থেকে শিশু, নারী ও বৃদ্ধরা বিপাকে পড়েন। এ সময় খাবার ও পানির সংকট দেখা দেয়।
যাত্রী সেলিম মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সকাল ৬টায় বাসে উঠেছি, ৯টা পর্যন্ত মাত্র কয়েক কিলোমিটার এগিয়েছে। শেষে নেমে হেঁটে যেতে হয়েছে। খাবার-পানি কিছুই পাইনি। আরেক যাত্রী নাসরিন আক্তার বলেন, গরমে ছোট বাচ্চাকে নিয়ে সারা রাত গাড়িতে বসে ছিলাম। শিশুটি কান্নাকাটি করেছে, ভীষণ কষ্ট হয়েছে।
দীর্ঘ যানজটে ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। সোনারগাঁওয়ের ব্যবসায়ী শহিদুল ইসলাম বলেন, এ ধরনের যানজট হলেই আমাদের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়। সময়মতো পণ্য বাজারে পৌঁছাতে না পারায় বিক্রি কমে যায়।
ট্রাফিক পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা হলেই এমন স্থবিরতা তৈরি হয়। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এবং ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে উন্নয়নকাজ চলমান থাকায় একটি সড়কে সমস্যা তৈরি হলে চাপ অন্য সড়কেও বেড়ে যায়। এতে যাত্রীদের ভোগান্তি বহুগুণে বৃদ্ধি পাচ্ছে।



