টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা, দুর্ভোগে জনজীবন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৮ জুলাই ২০২৫, ০৬:২৫ পিএম
ছবি : টানা বৃষ্টিতে নোয়াখালীতে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা
নোয়াখালীতে ২৪ ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতে জেলা শহরসহ বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত ১৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড হয়েছে, যা সৃষ্টি করেছে ভয়াবহ জলাবদ্ধতা। জেলা সদর, সেনবাগ, বেগমগঞ্জ, চাটখিল, কোম্পানীগঞ্জ ও সুবর্ণচরের অসংখ্য এলাকায় হাঁটু থেকে কোমর সমান পানি জমে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে।
বিশেষ করে মাইজদীর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, মৎস্য অফিস, জেলা খানা সড়ক, পাঁচ রাস্তার মোড় ও পৌর বাজারসহ গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনা পানিতে ডুবে যায়। এতে কাঁচা ও আধা-পাকা রাস্তা অচল হয়ে পড়ায় পথচারী ও যানবাহনের চালকরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
বৃষ্টির পানি অনেক বাসাবাড়িতেও ঢুকে পড়ে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসগামী লোকজন দুর্ভোগের মুখে পড়েন। সকালে স্কুলে যাওয়ার সময় কয়েকজন শিশু জলকাদায় পড়ে আহত হয়েছে বলে জানা গেছে। জলাবদ্ধতার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে অসংখ্য দোকানপাট।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সমস্যার সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ না করায় প্রতিবারই বৃষ্টিতে একই দুর্ভোগের পুনরাবৃত্তি ঘটে। আবু সাইদ নোমান অভিযোগ করেন, “সঠিক ড্রেনেজ না থাকায় শহরে সামান্য বর্ষণেই জলাবদ্ধতা হয়, অথচ কোনো পরিকল্পিত উদ্যোগ নেই।” সুবর্ণচরের মাইন উদ্দিন বলেন, “খাল খনন না করা ও বাঁধ দেওয়ার কারণে জলাবদ্ধতা বেড়েছে। নেতারা থাকলেও সাধারণ মানুষের জন্য কাজের আগ্রহ নেই।”
আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিনেও ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। ফলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।
নোয়াখালী পৌর প্রশাসক জালাল উদ্দীন জানান, “টানা বর্ষণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে, দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।” জেলা প্রশাসক খন্দকার ইসতিয়াক আহমেদ বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন।”



