“গ্রীন নারায়ণগঞ্জ” গড়তে কাজ করছি: জেলা প্রশাসক
নারায়ণগঞ্জ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০২ জুলাই ২০২৫, ১০:৩০ পিএম
ছবি-সংগৃহীত
“নারায়ণগঞ্জ হবে সবুজে ঘেরা, প্রাচ্যের ড্যান্ডি হবে বিশ্বে সেরা” — এই শ্লোগানকে সামনে রেখে “গ্রীন অ্যান্ড ক্লিন নারায়ণগঞ্জ” কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল চষে বেড়াচ্ছেন জেলা প্রশাসক জাহিদুল ইসলাম মিঞা। দেশের অন্যতম শিল্পঘন এই জেলায় মাত্র দুই মাসে ১ লক্ষ গাছ রোপণের লক্ষ্যে সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত নিরলসভাবে কাজ করে চলেছেন তিনি।
এরই ধারাবাহিকতায় আজ বন্দর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী লাঙ্গলবন্দ তীর্থস্থানে ১০০টি কৃষ্ণচূড়া ও ৫০টি রাধাচূড়া গাছ রোপণ করেন জেলা প্রশাসক। প্রতি বছর প্রায় ১০ লক্ষ তীর্থযাত্রীর আগমন ঘটে এ পবিত্র স্থানে। বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে সৌন্দর্য বৃদ্ধির পাশাপাশি ধর্মীয় পর্যটকদের জন্য ছায়াবেষ্টনী তৈরি হবে বলে জানান তিনি।
বৃক্ষরোপণকালে উপস্থিত ছিলেন বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান, সহকারী কমিশনার (ভূমি) রহিমা আক্তার ইতি এবং মুছাপুর ইউপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মঞ্জুর হাসান।
জেলা প্রশাসক বলেন, “নারায়ণগঞ্জের মানুষ যেন সবুজ পরিবেশে স্বস্তিতে শ্বাস নিতে পারে, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। নারায়ণগঞ্জকে একটি গ্রীন সিটিতে পরিণত করতে চাই। বৃক্ষরোপণ একটি সদকায়ে জারিয়া। বনজ ও ফলজসহ সব ধরনের গাছ লাগানো হবে।”
এদিন তিনি সোনাকান্দা-কলাগাছিয়া খালের প্রায় ৪.৮ কিলোমিটার এলাকায় খাল খনন ও পরিস্কার কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। শীতলক্ষ্যা নদী থেকে শুরু হয়ে ধলেশ্বরীতে মিশে যাওয়া এই খালটি জলাবদ্ধতা নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, অপরাধ দমন ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় বন্দর উপজেলার বিভিন্ন অপরাধপ্রবণ এলাকায় প্রথম ধাপে ১০টি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে বন্দর থানা, মদনপুর ব্রিজ ও বাসস্ট্যান্ডসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। ক্যামেরাগুলোর মনিটরিং সিস্টেম স্থাপন করা হয়েছে বন্দর থানায় এবং নিয়ন্ত্রণ রাখা হচ্ছে উপজেলা পরিষদ থেকে। দ্বিতীয় পর্যায়ে আরও ১৮টি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ চলমান রয়েছে।
পরবর্তীতে বন্দর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে বিভিন্ন স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যবই এবং বিনামূল্যে গাছের চারা বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক। বক্তব্যে তিনি বলেন, “শিক্ষার মানোন্নয়নে শিক্ষক ও পরিবারকে একযোগে দায়িত্ব নিতে হবে।”
তিনি আরও জানান, আগামী ১০ জুলাইয়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জে ১ লক্ষ গাছ রোপণ করা হবে। পাশাপাশি পুরো জেলায় জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম চলবে।
স্থানীয়দের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময় জেলা প্রশাসক বলেন, “সন্তানদের ফুলের মতো লালন করে প্রকৃত মানুষ করে তুলতে হবে। তাহলেই আমরা কাঙ্ক্ষিত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে পারব।”



