মিরপুরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলমান থাকবে, ফ্যাসিবাদের দোসররা হামলা করছে: ডিএনসিসি প্রশাসক
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২২ পিএম
রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) মিরপুর-১০ নম্বরে উচ্ছেদ অভিযান পরিদর্শনে গিয়ে এ ঘোষণা দেন তিনি।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত করার কর্মসূচি চলমান থাকবে। তার দাবি, উচ্ছেদ অভিযানের সময় ফুটপাত দখল করে রাখা ব্যক্তিরা এবং তাদের ইন্ধনে সিটি করপোরেশনের পরিবহন, সাংবাদিক ও কিছু পুলিশ কর্মকর্তার ওপর হামলা করা হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম খান বলেন, স্থানীয় সাধারণ জনগণের প্রতিরোধের মুখে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে। নগরবাসীর নির্বিঘ্নে চলাচলের সুযোগ করে দিতে ফুটপাত উদ্ধারের কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার পর সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন দেয়া হয়েছে। পাশাপাশি ভেকু ও পুলিশের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। তার অভিযোগ, পরিকল্পিতভাবে মসজিদে আগুন দিয়ে অরাজকতা সৃষ্টি করা হয়েছে।
ডিএনসিসি প্রশাসক জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে পুলিশের পক্ষ থেকে এবং ডিএনসিসির পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা করা হবে।
তিনি বলেন, মিরপুরের সাধারণ মানুষ ফুটপাত দখলমুক্ত চায়—আজকের ঘটনায় সেটি প্রমাণ হয়েছে। ভবিষ্যতে কারও ইন্ধনে আবার ফুটপাত দখলের চেষ্টা করা হলে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
উচ্ছেদ অভিযানে সহযোগিতা করায় স্থানীয় জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের চাহিদা অনুযায়ী ফুটপাত দখলমুক্ত করা হচ্ছে এবং এটি সিটি করপোরেশনের নৈতিক দায়িত্ব।
সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে জানিয়ে শফিকুল ইসলাম খান বলেন, উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার সময় সাংবাদিকরা নির্যাতিত হয়েছেন। এ ঘটনায় জড়িতদের অনেকে ইতোমধ্যে চিহ্নিত হয়েছেন।
ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, আমি মিরপুরের সন্তান এবং এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত। ফুটপাত দখলের মতো কর্মকাণ্ড চলতে দেয়া হবে না। এ বিষয়ে ‘ডাইরেক্ট অ্যাকশন’ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, মিরপুর-১০ নম্বরে ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান চলাকালে বিদ্যুতের শর্টসার্কিট থেকে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীরা সিটি করপোরেশনের তিনটি ময়লার গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেন। এ সময় একটি ভেকু ও পুলিশের গাড়িও ভাঙচুর করা হয়।



