ঢাকায় জলাবদ্ধতা
ওয়াসা-সিটি করপোরেশনের ব্যর্থতার দায় কে নেবে?
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১৮ জুলাই ২০২৬, ১২:৫৬ পিএম
টানা বৃষ্টিতে রাজধানী ঢাকার সড়কে হাঁটু-কোমর সমান পানি, ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজট, বিকল যানবাহন—চরম দুর্ভোগে নগরবাসী। এরই মধ্যে দুই সিটি করপোরেশন ও ওয়াসার হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের পরও বাড়ছে জলাবদ্ধতার পুনরাবৃত্তি। বিশেষজ্ঞ ও বাসিন্দারা বলছেন, নিষ্কাশন পথ হারিয়ে যাওয়াই প্রধান কারণ। প্রশাসকরা অবশ্য খাল পুনরুদ্ধার ও সমন্বিত ড্রেনেজ ব্যবস্থার কথা বললেও বাস্তবে তেমন কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে না।
গত রবিবার (১২ জুলাই) ভোর থেকে দুই দিনের ভারী বর্ষণে রাজধানীর অধিকাংশ এলাকা প্লাবিত হয়। মহাখালী, ফার্মগেট, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি, মিরপুর, বনানী, বাড্ডা—প্রায় প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। পানির নিচে তলিয়ে যায় অলিগলি, নিম্নাঞ্চল ও আবাসিক এলাকা। চরম ভোগান্তিতে পড়েন অফিসগামী মানুষ, স্কুলশিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিক।
গত ২০ বছরে ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ঢাকা ওয়াসার অধীনে ২৬টি খাল সংস্কার, নালা নির্মাণ ও পরিচ্ছন্নতা—সব মিলিয়ে বাড়তি অর্থ খরচ হলেও সমাধান মেলেনি। এখন খালগুলো দুই সিটির কাছে হস্তান্তর করলেও পুনরুদ্ধারে গতি নেই।
নগর পরিকল্পনাবিদ অধ্যাপক আদিল মুহাম্মদ খানের ভাষ্য, 'ঢাকার খালগুলো দখল ও আবর্জনা ফেলে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ হয়ে গেছে। সমন্বিত পানিনিষ্কাশন মহাপরিকল্পনা ছাড়া বিচ্ছিন্ন উদ্যোগে লাভ নেই।'
স্থপতি ইকবাল হাবিব জানিয়েছেন, 'ব্লু নেটওয়ার্ক তৈরি না করলে জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি নেই। তবে সেই উদ্যোগ এখনও চোখে পড়েনি।'
ডিএসসিসি জলাবদ্ধতাপ্রবণ ২৯টি হটস্পট চিহ্নিত করলেও সম্প্রতি শুধু ড্রেন-নালা পরিষ্কারের বাইরে বড় কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়নি। অন্যদিকে ডিএনসিসির আওতাধীন শতাধিক এলাকায়ও বৃষ্টির পর পানি জমে থাকে, যা স্বাভাবিক জীবনকে স্থবির করে দেয়।
এ বিষয়ে ডিএসসিসি প্রশাসক মোহাম্মদ আবদুস সালাম বলেছেন, 'প্রকৃতির সঙ্গে পুরোপুরি জয়ী হওয়া সম্ভব নয়। তবে বৃষ্টির পানি নদীতে নামার পথ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী বছর পরিস্থিতির উন্নতি হবে।'
ডিএনসিসি প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান উল্লেখ করেছেন, 'খাল দখলমুক্ত ও পুনঃখনন না হলে স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। খাল পুনরুদ্ধার আমাদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।'
তবে সাধারণ বাসিন্দারা বলছেন, বারবার আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবতা একই রয়েছে। আজিমপুর, শান্তিনগর, বংশাল ও পল্টনের মতো এলাকাগুলোতে সামান্য বৃষ্টিতেই নৌকা চলার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়।
জলাবদ্ধতার পেছনে আরও একটি কারণ—ঢাকার ড্রেনেজ ব্যবস্থার অপরিকল্পিত বিন্যাস। নালা, কালভার্ট ও খালের মধ্যে বিচ্ছিন্নতা থাকায় বৃষ্টির পানি স্বাভাবিক গতিতে নদীতে মেশাতে পারে না।
দীর্ঘমেয়াদি সমাধানের জন্য পরিকল্পনাবিদরা খাল ও জলাশয় সংরক্ষণ, সমন্বিত নিষ্কাশন নেটওয়ার্ক ও নগরায়ণে নিষ্কাশন ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্তির পরামর্শ দিয়েছেন।



