ভাটারা থানার ওসির মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অস্বাভাবিক লেনদেন
নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৫:৪১ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
ডিএমপির ভাটারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইমাউল হকের ব্যক্তিগত মোবাইল ব্যাংকিং নম্বরে (01712254***) অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য মিলেছে।
২০২৫ এর ২০ ডিসেম্বর থেকে ৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত লেনদেন হওয়া এসব টাকার বেশির ভাগই আবার অনলাইন জুয়ায় ব্যয় হয়েছে।
ওসির বিকাশ ও নগদ নম্বরে আসা এই অর্থের পরিমাণ ৩২ লাখ ৩৩ হাজার টাকা। যা সাতটি বিকাশ ও নগদ একাউন্ট হতে তার কাছে বিভিন্ন সময়ে পাঠানো হয়।
তথ্য অনুযায়ী, সাতটি বিকাশ ও নগদ একাউন্ট থেকে বিভিন্ন সময়ে এই অর্থ তার নম্বরে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ভাটারা থানার পেছনে অবস্থিত একটি দোকান থেকে এসেছে ৪ লাখ ৫৫ হাজার টাকা, কনস্টেবল আমজাদের নম্বর থেকে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা, কনস্টেবল সাদ্দামের নম্বর থেকে ৬ লাখ ৯১ হাজার ৬২৯ টাকা, বাড়িওয়ালা নাসিমের নম্বর থেকে ১ লাখ ৩৮ হাজার ৮০ টাকা এবং মদিনা এজেন্ট হাউজ থেকে ২ লাখ ১৪ হাজার টাকা।
এ ছাড়া খালেক নামের এক ব্যক্তি পাঠিয়েছেন ২ লাখ ৯০ হাজার ৮৫০ টাকা, লন্ড্রি পিকআপ অ্যান্ড ড্রপ নামে একটি রেজিস্ট্রেশনকৃত নম্বর থেকে এসেছে ৬ লাখ ৩৪ হাজার ৯১০ টাকা এবং মিজানুর নামের আরেক ব্যক্তির নম্বর থেকে এসেছে ৫ লাখ ৪৯ হাজার ১২০ টাকা।
পাশাপাশি ওসির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টেও বিপুল অর্থ লেনদেনের তথ্য মিলেছে।
ওসি তার মোবাইল ব্যাংকিংয়ে পাওয়া এসব টাকা এপিআই (API) সিস্টেমের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন জুয়াতেও খরচ করেছেন।
সম্পূর্ণ অবৈধ অনলাইন জুয়ার আড়ালে এসব অর্থ দুর্নীতিগ্রস্ত সরকারী/বেসরকারী কর্মকর্তাদের জন্যে নিরাপদ অর্থ লেনদেনের এক উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে সরাসরি ওসি ইমাউলকে ফোন করলে তিনি অনলাইন জুয়ার বিষয় তার কোণ ধারণা নেই এবং তার মোবাইলটি অধিগ্রহণ (হ্যাক) করে একটি গোষ্ঠী এই কাজ করেছে বলে দাবি করেন।



