শনির আখড়ায় ২৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার
আরাফাত হোসেন
প্রকাশ: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম
রাজধানীসহ সারা দেশে এলপিজি গ্যাসের বাজারে চরম নৈরাজ্য বিরাজ করছে। প্রশাসনের চলমান অভিযানকেও পাত্তা দিচ্ছেন না অসাধু বিক্রেতারা। সরকার নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে প্রকাশ্যে দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে এলপিজি সিলিন্ডার। আবার বেশিরভাগ দোকানে এলপিজি সিলিন্ডার সংকট দেখা গিয়েছে, এটা কি আসলেই সংকট না কি ব্যবসায়ীদের সিন্ডিকেট। অতিরিক্ত দামে সিলিন্ডার বিক্রি করায় অনেক বাসা বাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলছে না বাহিরের হোটেল থেকে কিনে খাচ্ছে অধিক মানুষ ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে সন্ধ্যা রাজধানীর শনির আখড়া এলাকায় গ্রাহক সেজে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম চাওয়া হচ্ছে ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা। একটু কমে বিক্রি করা যাবে কিনা জানতে চাইলে বিক্রেতা বলেন একদাম। আবার কোথাও সিলিন্ডার নেই বলেন বিক্রেতারা।
ব্যবসায়ীরা এলপিজি সিলিন্ডার সংকট দেখিয়ে দাম বৃদ্ধি করছে দাবি ভোক্তাদের। সরকারের নিয়ম না মেনে কোম্পানি থেকে ডিলার ও খুচরা পর্যায়ে এলপিজি মজুত করে অতিরিক্ত দামে বিক্রি করছে ব্যবসায়ীরা। এসব ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে গুটিকয়েক অভিযান পরিচালনা করে ভোক্তা অধিদপ্তর। তাতে সুফল পাচ্ছে না জনসাধারণ।
শনির আখড়া এলাকায় মেসে থাকেন সিফাত আহমেদ। তিনি একটি বেসরকারি কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। শুক্রবার সকালে রান্নার সময় গ্যাস শেষ হয়ে যায়। তারপর এলাকার এলপিজি সিলিন্ডার কয়েকটি দোকান ঘুরেও কিনতে পারেনি সিফাত।
তিনি জানান, বেশিরভাগ দোকান বলছে সিলিন্ডার নেই, দুটা দোকানে ২৫০০ টাকা দাম বলায় না কিনে বাসায় ফিরেন। রাতে খেতে হবে বাহিরের হোটেলে, কবে নাগাদ সিলিন্ডার কিনতে পারবেন তা সে বলতে পারছে না। তবে সরকারের তদারকি এলপিজি দাম কমিয়ে আনার দাবি জানান।
দক্ষিন দনিয়া এলাকার ‘মদিনা এন্টারপ্রাইজ’ জানায়, তার কাছে গ্যাস নেই। আনতে পাঠিয়েছেন। পেলে দিতে পারবেন। তারা গতকাল পর্যন্ত ২৪০০-২৫০০ টাকায় গ্যাস বিক্রি করেছে। আজ দাম কিছুটা কমতে পারে বলে তিনি জানান। এত বেশি দাম কেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, গ্যাসই নাই। আমরা কী করবো?
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এলপিজির দাম কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না। তাই সামাজিকভাবে গ্রাহকদের সচেতন হওয়া জরুরি। যেহেতু সরকার দাম নির্ধারণ করেছে ও এলপিজি অপারেটররাও বলছে খুচরা পর্যায়ে বাড়তি দামে এলপিজি বিক্রি হচ্ছে—তাই সামাজিক প্রতিরোধ প্রয়োজন।
এলপিজি অপারেটর্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (লোয়াব) ভাইস প্রেসিডেন্ট হুমায়ুন রশিদ বলেন, বলেন, ডিলাররা পর্যাপ্ত গ্যাস না পাওয়ায় সুযোগসন্ধানীরা এই পরিস্থিতি তৈরি করেছে। আমাদের পক্ষে ঘরে ঘরে গিয়ে তদারকি করা সম্ভব নয়। তবে আমরা বিকল্প দেশ থেকে দ্রুত গ্যাস আমদানির চেষ্টা করছি। একটু সময় দিতে হবে। আশা করছি শিগ্গিরই সংকট কেটে যাবে।



