রাজ্জাকের বাসা থেকে নগদ টাকা উদ্ধার, চাঁদাবাজির তদন্তে নতুন তথ্য
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫, ০৯:১৪ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
গুলশানে সাবেক এমপি শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা দাবি করে গ্রেপ্তার হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আবদুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান ওরফে রিয়াদের রাজধানীর বাড্ডার বাসা থেকে ২ লাখ ৯৮ হাজার টাকা উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (৩১ জুলাই) ভোরে বাড্ডা এলাকার বাসায় অভিযান চালিয়ে টাকা উদ্ধার করা হয়। গুলশান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাফিজুর রহমান জানান, উদ্ধার করা অর্থ শাম্মী আহমেদের বাসা থেকে নেয়া ১০ লাখ টাকার একটি অংশ।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঢাকায় রাজ্জাকের দুটি ভাড়া বাসার খোঁজ পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী—একটি বাড্ডার বৈকাল এলাকায়, অন্যটি পশ্চিম রাজাবাজারে। তিনি নিয়মিত বাড্ডার বাসায় অবস্থান করতেন।
এর আগে পুলিশ তার অন্য বাসা থেকে ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার চারটি চেক উদ্ধার করে, যা সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের মালিকানাধীন ‘ট্রেড জোন’ প্রতিষ্ঠান থেকে নেওয়া হয়। যদিও ব্যাংকে অর্থ না থাকায় চেকগুলো ছাড়া যায়নি এবং রাজ্জাকসহ অভিযুক্তরা আজাদকে হুমকি দিতে থাকেন।
চাঁদা আদায়ের দ্বিতীয় দফার সময় ১৭ জুলাই রাজ্জাকসহ আরও চারজন হাতেনাতে গ্রেপ্তার হন। অন্য চারজন হলেন—ইব্রাহিম হোসেন মুন্না, সাকাদাউন সিয়াম, সাদমান সাদাব ও একজন কিশোর। তারা বর্তমানে সাত দিনের রিমান্ডে রয়েছেন।
তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ‘নিট জোন প্রাইভেট লিমিটেড’ প্রতিষ্ঠানের নামে ইস্যু করা চেকগুলোতে কেবল অঙ্ক ও স্বাক্ষর ছিল, নাম ছিল না। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগস্টে সেগুলোর বিপরীতে অর্থ তোলার চেষ্টা করা হতো।
রাজ্জাক একসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা ছিলেন। পরে তিনি ‘গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদ’-এর সঙ্গে যুক্ত হয়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হুমকি দিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করেন বলে তদন্তে জানা গেছে।
ডিএমপির উপকমিশনার তালেবুর রহমান বলেন, “চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িতদের দলীয় পরিচয় মুখ্য নয়। অপরাধে জড়িত সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে।”
পুলিশ জানিয়েছে, রাজ্জাকের অন্যান্য সহযোগীদের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। চাঁদাবাজির শিকারদের পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।



