
প্রিন্ট: ০৫ এপ্রিল ২০২৫, ০৯:৫৯ এএম
ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হামাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ জানুয়ারি ২০২৫, ১২:৪৬ এএম

ছবি : সংগৃহীত
১৫ মাসের ধ্বংসাত্মক সংঘর্ষের পর, অবশেষে হামাস ও ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ইসরায়েলি সরকার এবং হামাসের পক্ষ থেকে তাত্ক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে হামাসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কাতার এবং মিসরের মধ্যস্থতায় প্রস্তুত করা খসড়াটি তাদের পক্ষ থেকে অনুমোদন দেয়া হয়েছে।
যুদ্ধবিরতির তিন ধাপের পরিকল্পনার বিস্তারিত এখনো প্রকাশিত হয়নি। তবে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ছয় সপ্তাহের মধ্যে হামাসের হাতে আটক থাকা ৩৩ জন বন্দিকে ইসরায়েলের জেলে থাকা ফিলিস্তিনি বন্দিদের বিনিময়ে মুক্তি দেয়া হবে। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার জনবহুল এলাকা থেকে সরে যাবে এবং বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের তাদের বাড়িতে ফেরার অনুমতি দেয়া হবে।
দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা দুই সপ্তাহ পর শুরু হবে, যেখানে বাকি বন্দিদের মুক্তি, ইসরায়েলি সেনাদের সম্পূর্ণ প্রত্যাহার এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়ে আলোচনা হবে। তৃতীয় ও চূড়ান্ত পর্যায়ে গাজার পুনর্গঠন করা হবে, যা কয়েক বছর সময় নিতে পারে। যেসব বন্দির মরদেহ অবশিষ্ট রয়েছে, সেগুলো ফেরত দেওয়া হবে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হামাসের সম্মতি পাওয়ার পরই চুক্তিটি বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে এবং রবিবার (১৯ জানুয়ারি) থেকে এটি কার্যকর হবে। প্রথম দফায় বন্দিদের মুক্তির মাধ্যমে চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
এর আগে এক ইসরায়েলি কর্মকর্তার উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল, হামাস গাজার যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে সম্মতি দিয়েছে এবং শীঘ্রই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে। এই সংবাদটি এমন সময়ে এলো, যখন গাজা অঞ্চলে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে এবং সেখানে মানবিক সংকট তীব্রতর হচ্ছে।
গাজায় অব্যাহত ইসরায়েলি হামলায় গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬২ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। এতে গত ১৫ মাস ধরে চলা ইসরায়েলি আগ্রাসনে এ পর্যন্ত প্রায় ৪৭ হাজার ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। যদিও ল্যানসেট জানিয়েছে, এই সংখ্যা ৪০ শতাংশ কম।